• শনিবার   ২৫ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

‘উপজাতিরা কোটার অপব্যবহার করছে’

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২২  

‘পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে জনসংহতি সমিতির নেতাদের জন্য মাত্র দুটি শর্ত ছিল। যার একটি ছিল তাদের সব ধরণের অস্ত্র জমা দেওয়া। সব অস্ত্রধারী ক্যাডার আত্মসমর্পণ করবে। বাস্তবে কি ঘটেছে। অথচ বর্তমান সরকার ৬৯টি ধারা বাস্তবায়ন করেছে। এখানে ব্যর্থতা কার কতটুকু এই দায়ভার আমি আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম।’

পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্রধারীদের উদ্দেশ্যে রাঙামাটিতে দেওয়া ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীনের এমন একটি বক্তব্য এখন ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকজুড়ে। কেবল এই বক্তব্য নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি-বাঙালিদের মাঝে শান্তি স্থাপনে উপজাতি সন্ত্রাসীদের ওপেন চ্যালেঞ্জ করে তার নানান ধরনের সাহসিক কথা প্রশংসা কুড়াচ্ছে সর্বমহলে। অনেকে বলেছেন, মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীনের এই বক্তব্য দু:সাহসিক। দেশের জন্য তার মমত্ববোধ।

অনেকে আবার তার বক্তব্যের নিচে কমেন্ট করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্রধারীদের রুখতে সেনাবাহিনীর বিকল্প নেই। গত ২৬ মে দুপুরে রাঙামাটির সুখী নীলগঞ্জে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পার্বত্য আঞ্চলিক দপ্তর ও ৩ পার্বত্য জেলায় তিনটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীন। তিনি যখন সেখানে বক্তব্য রাখছিলেন তখন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), টাস্খফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ, বিজিবির ডিজি, ডিজিএফআইয়ের প্রধান, এনআইএসআইয়ের মহাপরিচালকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জিওসি মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীন শান্তিচুক্তির বিষয়ে আরও বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির বিষয়ে তার আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে। ৬৯টি ধারার বাইরে তারা ৩০টি চুক্তির ভেতর ১৫টি চুক্তি বাস্তবায়ন করেছে। বাকিগুলো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে। কিন্তু জনসংহতি সমিতির নেতারা কি করছে।’ এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, স্বদিচ্ছা তাহলে কার নেই। সরকারের? নাকি আপনাদের। এই বিচারের দায়ভার আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম।

জনসংহতি সমিতির নেতারা একটি দল থেকে একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ে শান্তি বিনষ্ট করছে এমন কথা উল্লেখ করে মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীন বলেন, আপনারা আধিপত্য বিস্তারের জন্য নিজেরা একাধিক দলে বিভক্ত হয়েছেন। করছেন খুনোখুনি। মারামারি। সংঘাত। শহরে চাঁদাবাজি করছেন। তিনি আরও বলেন, এসব করছেন অস্ত্র আনার জন্য। বলয় বাড়ানোর জন্য। জোর করে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য। এখানে অউপজাতিদের বাদ দিয়ে কিছুতেই শান্তি স্থাপন করা যাবে না। কেউ যদি তাদেরকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে বলে তা হবে আকাশ কুসুম কল্পনা।

মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীন কোটা ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে উপজাতীরা এমন প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সবকিছুতেই কোটা। কেন? সেটা যদি থাকে সবকিছুতেই থাকতে হবে। উপজাতি, অউপজাতি সবার জন্য কোটা হবে। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি নজরে আনার আবেদন জানাবো। তিনি আরও বলেন, এটা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। তাহলে দেখা যাবে প্রতিযোগিতায় কারা এগিয়ে আসতে পারে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]