• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ১ ১৪২৯

  • || ১৭ মুহররম ১৪৪৪

দৈনিক খাগড়াছড়ি

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২২  

ছবি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর বক্তব্য রাখছেন।

ছবি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর বক্তব্য রাখছেন।

 

পদ্মার ওই পাড়ের বাসিন্দা মাত্রই জানেন খরস্রোতা নদীটির চরিত্র। কখনো সে শান্ত, কখনো সে প্রবল স্রোতে উত্তাল। আকাশে মেঘ দেখে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কথা ভাবতে হয়। নদীর ভাব দেখে যাত্রীরা সিদ্ধান্ত নেন বাহন স্পিডবোট, লঞ্চ নাকি ফেরি হবে। এই পথ পারাপারের অভিজ্ঞতা থাকা যাত্রীই  শুধু জানেন এর ঝক্কি ও ঝুঁকি কতটা।  আজ থেকে এ সবই অতীত। মাত্রই দুয়ার খুললো। স্বপ্নের, সক্ষমতার সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের সুধী সমাবেশের পর মাওয়া প্রান্তে সেতুর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। আর এর মাধ্যমেই খুলে গেল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অপরাপর অংশের জন্য সংযোগ, যোগাযোগ ও সম্ভাবনার অনন্ত দুয়ার। 

আজ সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে সেতুর দুই প্রান্তে শুরু হয়েছে উৎসব। বড় সমাবেশটি হতে যাচ্ছে বেলা ১২টায়, মাদারীপুরের শিবচেরর কাঁঠালবাড়ীতে। কিন্তু এর আগেই সেখানে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে ভোর থেকে।

বেলা ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়ার সুধী সমাবেশে এসে পৌঁছান। শুরু হয় সভায়। তিনি ছিলেন এ সমাবেশের প্রধান অতিথি। সমাবেশের সভাপতি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তাঁর বক্তব্যের পরই তুমুল হর্ষধ্বনীর মাধ্যমে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শুরুতেই দেশের মানুষের প্রতি তাঁকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। এ সেতু নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতুর প্রতিটি স্তম্ভ যেন স্পর্ধিত বাংলাদেশের একেকটি স্তম্ভ।’ শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন , কেউ দাবায়ে রাখতে পারে না। কেউ দাবায় রাখতে পারে নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ সেতু কেবল সেতু নয়। এর ৪২টি স্তম্ভ স্পর্ধিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাবাস বাংলাদেশ এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে–পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মাথা নোয়াব না। জাতির পিতা আমাদের মাথা না নোয়াতে শিখিয়েছিলেন। আমরা মাথা নোয়াইনি। মাথা নোয়াব না। জাতির পিতা ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে জীবনের জয়গান গেয়েছেন।’  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এ সেতু কেবল সেতু নয়। এর ৪২টি স্তম্ভ স্পর্ধিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি। আমরা বিজয়ী হয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের শক্তিই বড় শক্তি, তাদের শক্তি নিয়েই আমি কাজ শুরু করেছিলাম। কাজ শেষ করেছি।’ শেখ হা্সিনা বলেন, ‘বাঙালি বীরের জাতি। বারবার আঘাত এসেছে। কিন্তু বাঙালি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’ 

এই সেতু দেশের জনগণের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ, আমাদের সৃজনশীলতা, আমাদের সাহসিকতা এবং আমাদের প্রত্যয়। যদিও ষড়যন্ত্রের কারণে আমাদের প্রায় দুই বছর বিলম্বিত হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণে দুই বছর দেরি হলেও কিন্তু হতাশায় ভুগিনি। শেষ পর্যন্ত অন্ধকার দূর করে আলোর পথে যাত্রা করতে সক্ষম হয়েছি।’

বাংলাদেশের মানুষের সাহস ও আত্মমর্যাদার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর এক বিদেশি সাংবাদিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, বাংলাদেশের কোনও সম্পদ নেই, আপনি কীভাবে দেশ গড়ে তুলবেন? বঙ্গবন্ধু  এর জবাবে বলেছিলেন, ‘আমার মাটি আছে, মানুষ আছে, তা দিয়েই দেশ গড়বো।’ সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের অর্থনীতি সচল আছে। অনেক প্রকল্প নিয়েছি, পদ্মা সেতু তৈরি করেছি। বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের অর্থনীতি করোনা মোকাবিলা করেছে, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ মোকাবিলা করেও গতিশীল আছে। বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ, জনগণ সাহসের ঠিকানা। বাংলাদেশের জনগণকে আমি স্যালুট জানাই।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেছিল পদ্মা সেতু সম্ভব না, বিরোধিতা করেছিল, ষড়যন্ত্র করেছিল; আমি মনে করি তাদের চিন্তার ও আত্মবিশ্বাসের দৈন্যতা আছে। তবে আজকের পরে তাদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়বে বলে বিশ্বাস করি- না, বাংলাদেশ পারে।’

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপলক্ষে সুধী সমাবেশে বক্তৃতা পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট সবার কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। যারা কাজ করার সময় পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। যারা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নানা যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই আনন্দঘন মুহূর্তে সুধীবৃন্দ, দেশবাসী, প্রবাসী ভাইবোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমার ছোট বোন রেহানা, আমাদের ছেলেমেয়েরা সজীব ওয়াজেদ, সায়েমা ওয়াজেদ, রেদওয়ান মুজিবসহ সব নাতি-নাতনিকে দেশবাসীর সঙ্গে দোয়া জানাচ্ছি। স্বাধীন বাংলাদেশ, ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জন করেছে বাংলাদেশ, যার নেতৃত্বে পেয়েছি—মহান নেতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবকে স্মরণ করি শ্রদ্ধার সঙ্গে।’

তিনি বলেন, ‘এ দেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। এ দেশের মানুষের জন্য কিছু করা, সেটাকে আমরা দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি। যখন সব প্রতিষ্ঠান অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ালো, আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম—এই সেতু নিজস্ব টাকায় করবো। এ ঘোষণার পর আমার দেশবাসী, সাধারণ মানুষের কাছে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছিলাম। মানুষের শক্তিটাই বড় শক্তি। সেই শক্তি নিয়েই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করি।’

প্রধানমন্ত্রী বেদনার সঙ্গে স্মরণ করেন ৭৫-এর ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, মা, ছোট তিন ভাই, নববধূ, একমাত্র চাচা, ফুফাসহ আমাদের পরিবারের যারা শাহাদাতবরণ করেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। ব্রিগেডিয়ার জামিল ছুটে এসেছিলেন পারেননি, ঘাতকের বুলেট তাকেও হত্যা করে। শ্রদ্ধা জানাই, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি। যারা এই অন্যায়কে প্রতিবাদ করেছিল এবং করতে গিয়ে জীবন দিয়েছিল।’

পদ্মা সেতু নির্মাণের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন—প্রকৌশলী জামিলুর রেজাসহ সেতু নির্মাণের সময় যারা মারা গেছেন, তাদের মাগফিরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেতু নির্মাণের সময় ষড়যন্ত্র করা হয়। দুর্নীতির অপবাদ দিয়ে পরিবারগুলোকে যন্ত্রণার মধ্যে ফেলা হয়েছিল। সেই অপবাদ নিয়েছিল শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, রেদওয়ান মুজিব, তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন, মোশাররফ হোসেন ভূইয়াসহ যারা কাজটির সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের অমানুষিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে, তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও যারা সেতু নির্মাণে জড়িত, সব প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, শ্রমিক, নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা জড়িত—সংশ্লিষ্ট সবারর প্রতি কৃতজ্ঞতা। কৃতজ্ঞতা দেশবাসীর প্রতি, যারা সাহস জুগিয়েছিল। পদ্মা সেতুর দু’ধারের মানুষ নির্দ্বিধায় জমি হস্তানন্তর করেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

পদ্মা সেতু পাড়ি দেন প্রধানমন্ত্রী
বাসসের খবরে বলা হয়েছে, মাওয়া পয়েন্টে টোল পরিশোধের পর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি সেখানে মোনাজাতেও যোগ দেন।

উদ্বোধনের তিনি মাওয়া পয়েন্ট থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত দলের জনসভায় যোগ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বিকেলে হেলিকপ্টারে জাজিরা পয়েন্ট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন
দেশের বৃহত্তম স্ব-অর্থায়নকৃত মেগা প্রকল্পের জমকালো উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীমাওয়া পয়েন্টে স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শীট, উদ্বোধনী খাম এবং বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করেছেন। এরপর তিনি সেতু সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে ছবি তোলেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ১.২ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাওয়া প্রান্তে টোল দিলেন প্রধানমন্ত্রী
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করলেন। এর আগে ১১টা ৪৮ মিনিটে মাওয়া প্রান্তে টোল দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও অতিথিদের গাড়ি সেতু পাড়ি দেবে। আগামীকাল রোববার ভোর থেকে টোল দিয়ে সাধারণ যানবাহন চলাচল শুরু করবে সেতু দিয়ে।

আমরা মাথা নোয়াইনি, মাথা নোয়াব না: প্রধানমন্ত্রী
পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কারও বিরুদ্ধে আমার কোনো অনুযোগ নেই। আমরা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা দেশবাসীকে নিয়ে সব সমস্যা মোকাবিলা করে যাচ্ছি। 

বক্তব্যে আবেগাপ্লুত দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তিনি সেতু নির্মাণে সাহস জোগানো বাংলাদেশের জনগণকে স্যালুট জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা আবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, ‘জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা মাথা নোয়াইনি, আমরা মাথা নোয়াব না। জাতির পিতা আমাদের মাথা নোয়াতে শিখান নাই।’

এটি শুধু কংক্রিটের সেতু নয়, সম্মান আর সক্ষমতার প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে আর কিছুক্ষণ পরেই। বহু কাঙ্ক্ষিত সেই সেতুর উদ্বোধন করতে সেতুর মাওয়া প্রান্তে আগেই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বক্তব্য দিচ্ছেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি দেশবাসীকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন তিনি। তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণে জড়িতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের কারণে সেতু নির্মাণে বেগ পেতে হয়েছে। তবে থেমে যায়নি। আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নি।

১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি শুধু ইট, রড, সিমেন্ট ও কংক্রিটের সেতু নয়, বাংলাদেশের সম্মান আর সক্ষমতার প্রতীক। এই সেতু নির্মাণ ঠেকাতে ষড়যন্ত্র হলো।’

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। টাকা ছাড় না হতেই দুর্নীতির কথা বলা হলো। মামলা হলো। সব কিছু পেরিয়ে আমরা আজ এ সেতু উদ্বোধন করতে যাচ্ছি।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার তেজগাঁওয়ের পুরান বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টায় মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন তিনি। 

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই সুধী সমাবেশ থেকেই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঞ্চের সামনে উপস্থিত রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, মাহবুব-উল হক হানিফ, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন, ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, দেশের দীর্ঘতম এই সেতুর দাফতরিক নাম ‘পদ্মা সেতু’। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু রাজধানীর সঙ্গে মেলবন্ধন সৃষ্টি করলো দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলাকে। দ্বিতল দেশের দীর্ঘতম এই সেতুতে গাড়ি ও রেল দুটোই চলবে। সেতু নির্মিত হয়েছে কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে। সেতুতে থাকছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ পরিবহন সুবিধা। মুন্সীগঞ্জ জেলার মাওয়া, মাদারীপুর জেলার শিবচর এবং শরীয়তপুর জেলার জাজিরার সীমান্তবেষ্টিত পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক রয়েছে ১২ দশমিক ১২ কিলোমিটার।

১৯৯৯ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষার মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। মূল কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর। এরপর করোনা মহামারিতেও একদিনের জন্য কাজ থেমে থাকেনি; দীর্ঘ সাত বছরে দিন-রাত হাজারো মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাস্তবে রূপ নিয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]