• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ১ ১৪২৯

  • || ১৭ মুহররম ১৪৪৪

দৈনিক খাগড়াছড়ি

পদ্মাসেতু আর বন্যা ইস্যুতে সুনাম কুড়াচ্ছে সেনাবাহিনী

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২২  

একদিকে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ, অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতি-দুই সামাল দিচ্ছে দেশের সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আর তাতেই প্রশংসা ছড়াচ্ছে দেশের আপামর মানুষের কাছে। সরজমিনে দেখা গেছে, দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকা পদ্মাসেতুর নিরাপত্তা এবং নির্মাণ কাজে শুরু থেকেই নিরলস কাজ করে গেছে সেনাবাহিনী। অন্যদিকে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতিতেও মানুষের মাঝে ত্রাণ দিচ্ছে তারা। সেখানে সরকারের  সব ধরণের সহযোগিতা সফল করতে কাজ করে যাচ্ছে। 
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে বড় নদীগুলোর ওপর দিয়ে সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ৪ জুলাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
জাতির আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে দেশের উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে তাদের মেধা, প্রজ্ঞা, সততা ও নির্ভরশীলতার প্রতিফলন রেখে আসছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কোনো কোনো কেপিআইয়ের নিরাপত্তা কাজেও সেনাবাহিনী সম্পৃক্ত রয়েছে। যমুনা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুর নিরাপত্তাকল্পে যেভাবে যমুনা পাড়ে গড়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস, সেভাবেই পদ্মার উভয় পাড়ে তৈরি হয়েছে শেখ রাসেল সেনানিবাস (মাওয়া-জাজিরা)।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেতু বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণশৈলীতে ইঞ্জিনিয়ার পরামর্শক নিয়োগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়। 
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক সম্পাদিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা দায়িত্বগুলো হলো- মাওয়া প্রান্তে ৭৭ বর্গ কিলোমিটার ও জাজিরা প্রান্তে ১৩২ বর্গ কিলোমিটার এলাকার নিরাপত্তা এবং সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে ৬ কিলোমিটার নদীপথ প্রত্যক্ষভাবে নজরদারিতে রাখা এবং সেতুর নির্মাণকাজ সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি ব্যক্তি, শ্রমিক, অতিথি এবং সব সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর কাজের প্রশংসা করে বলেছেন, দেশের জন্য তাদের এই আন্তরিকতা কখনই ভুলবে না সারাদেশের মানুষ। তারা সহযোগিতা করেছিলেন বলেই এতো দ্রুত দু:সাহসিক কাজটি চমৎকারভাবে সফল হয়েছে। এদিকে সুনামগঞ্জে বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার, মুড়ি, বিস্কুটসহ ঔষধ বিতরণ করছে সেনা সদস্যরা। সরজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মঈনপুর গ্রামে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ। 
এ সময় তিনি বলেন, ‘যতদিন সুনামগঞ্জের বন্যাদুর্গত মানুষের প্রয়োজন হবে, ততদিন সেনাবাহিনী সেখানে থাকবে। সবাইকে সহযোগিতায় কাজ করবে। জাতীয় দুর্যোগ জাতীয়ভাবে মোকাবিলা করতে হবে। দুর্যোগে সাহস নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এখনো অনেক পানিবন্দি আছে।’
সেনাবাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন সক্ষমতার জায়গায় পৌঁছাচ্ছে যে এর চেয়ে বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারব। দুর্যোগ এসেছে সেটা মোকাবিলায় সাহস, ধৈর্য এবং আন্তরিকতার সঙ্গে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো মানুষের জীবন বাঁচানো। দ্বিতীয়ত তাদের স্বাস্থ্য এবং অন্য বিষয়গুলোর খেয়াল রাখা। এ লক্ষ্যে যা যা করণীয় আমরা করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন।’

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]