• শনিবার   ২৫ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

ভারত থেকে কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবে না

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২২  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা যে দেশে গেছে, সেখানেই থাক। আমাদের দেশে যারা (রোহিঙ্গা) এসেছে, আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। ভারত সরকারকে আমরা বিষয়টি অবহিত করেছি। বিজিবিকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। ভারত থেকে কোনো রোহিঙ্গাকে আসতে দেওয়া হবে না। আর এলেও তাদের পুশব্যাক করা হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা-সম্পর্কিত নির্বাহী কমিটির’ ১৭তম সভা শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারেন, সে জন্য সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এপিবিএন, বিজিবি ও র‍্যাব ক্যাম্পে তাঁদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। সেখানে টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও কাজ করছে। এরপরও রোহিঙ্গারা মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে, অপরাধে জড়িত হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করা হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় লোকদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে প্রতিবছর ৩৫ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। পাঁচ বছরে দেড় লাখ কিন্তু অটোমেটিক বেড়ে গেছে। ওই দিকেও নজর দিতে হবে। ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেষ্টনী তৈরি করা হচ্ছে, যেন রোহিঙ্গারা বের হতে না পারেন। সেখানে পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের পাশাপাশি সিসিটিভি স্থাপন করা হচ্ছে।

এর আগে রাত সাড়ে আটটার দিকে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা-সম্পর্কিত নির্বাহী কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদ, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল ফখরুল হাসান, পুলিশের চট্টগ্রামে রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হাসান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত, জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান, সিভিল সার্জন মাহবুবুর রহমান, ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হক প্রমুখ।

সভায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও তার আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ক্যাম্পের চারপাশে নিরাপত্তাবেস্টনী নির্মাণ, ভাসানচর আশ্রয় প্রকল্পে রোহিঙ্গা স্থানান্তর কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা এবং এনজিওগুলোর কার্যক্রম, তৎপরতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে রাঙামাটি থেকে হেলিকপ্টারে কক্সবাজারে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রামুতে বিজিবির কক্সবাজার অঞ্চলের বার্ষিক মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। আজ বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]