• শনিবার   ২৫ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

দীঘিনালায় ঘরবাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার হাস্যকর গল্প

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২২  

স্বাধীন রাষ্ট্রের সর্বত্রই দেওয়ানী আইন-কানুন একই রকম হওয়ার কথা। অথচ দেশের পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় ভূমি ব্যবস্থাপনায় বিরাজ করছে ভিন্ন আইন। ‘পার্বত্য বিশেষ অ্যাক্টের’ মারপ্যাঁচে এখানকার ভূমি ব্যবস্থাপনা, কেনাবেচা ও বরাদ্দসহ সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন উপজাতি নেতারা। এক সম্প্রদায় হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা জমির কাগজপত্র নিয়েই বসবাস করলেও সেখানে ভূমি সংক্রান্ত সব কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা সবই উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হাতে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে পার্বত্য অঞ্চলে উপজাতি নেতা বা কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থে ‘ইচ্ছাকৃত’ জটিলতা সৃষ্টি করে রেখেছেন।

পার্বত্য বাঙালিদের ৮০ শতাংশ বাসিন্দা কাগজপত্রসহ জমিতে বসবাস করলেও বেশিরভাগ উপজাতি বাসিন্দারই সে রকম কাগজপত্রও নেই। তারপরও বাঙালিদের জমিই দখল করা হচ্ছে হরহামেশায়। এর ফলে পার্বত্য অঞ্চলে নিজ ভূমে যেন পরবাসের মতো জীবনযাপন করছেন শান্তিপ্রিয় বাঙালিরা।

জানা যায়, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ৫ নম্বর বাবুছড়া ইউনিয়নের সোনামিয়া টিলার বাঙালিদের গুচ্ছগ্রামগুলো তৎকালীন শান্তিবাহিনীর অপতৎপতার কারণে ১৯৮৬ সালে স্থানান্তর করা হয়। কালের পরিক্রমায় বাঙালিদের ফেলে যাওয়া অধিকাংশ জমি উপজাতীয়রা দখল করে নেয়। ২০১৬-২০১৭ সাল পর্যন্ত সোনামিয়া টিলার ৮১২টি বাঙালি পরিবারের সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত খাসভূমি দখল করে নেয় পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসিত) এর মদদপুষ্ট উপজাতিরা।

এ ছাড়া খাগড়াছড়ির রামগড়ের গরুকাটা এলাকায় হিন্দু বাঙালি জগদীশ চন্দ্র নাথের তিন একর পাহাড়ি জমিতে স্কুল ঘর ও গুইমারা উপজেলার কুকিছড়ায় সেনাবাহিনীর প্রত্যাহারকৃত ক্যাম্পের পরিত্যক্ত জমিতে বৌদ্ধ মন্দির স্থাপনের মাধ্যমে দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছে ইউপিডিএফ। জমি দখল নিয়ে নিয়ে মুখ খুললে পরিবারসহ হত্যা হুমকি দেওয়া হয় জগদীশ চন্দ্রকে।

অতঃপর ভয়ঙ্কর আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গত বছরের ৪ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নিরীহ জগদীশ। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে শুধু জগদীশের জমি কিংবা সেনাবাহিনীর প্রত্যাহারকৃত ক্যাম্পের পরিত্যক্ত জমিই নয়, এমন অসংখ্য নিরীহ পাহাড়ি বাঙালি মালিকানা পাহাড়ি ভূমি ধর্মীয় উপসানালয় কিংবা স্কুল, ভাবনা কেন্দ্র, কিয়াংঘরসহ নানা নামে কৌশলে দখল করছে উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরা। এসব নিয়ে প্রতিবাদ তো দূরের কথা সামান্য মুখ খুললেই হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ নানা নৃশংসতার শিকার হতে হচ্ছে বাঙালিদের।

ফলে জীবনের মায়ায় বাপ-দাদার পাহাড়ি ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্রে চলে যাচ্ছেন বাঙালিরা। অন্যদিকে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নামে সরকারি ও আন্তর্জাতিক নানা সুযোগ ও সহানুভূতি নিয়ে কৌশলে বাঙালিদের বিতাড়িত করছে তারা। ইতোমধ্যেই রামগড়ের গরুকাটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা সাতক্ষীরার অন্তত ছয়টি পরিবারকে নির্যাতন করে বিতাড়িত করেছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি কৌশলে পার্বত্য এলাকার এই ভূমি দখলে তৎপরতা চালাচ্ছে উপজাতীয় সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) এবং জেএসএস (মূল)। অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৮ সালে সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস, সন্তু লারমা) সঙ্গে শান্তিচুক্তির পর যেসব এলাকা থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে তার অধিকাংশই ইউপিডিএফ (প্রসীত বা মূল) ও জেএসএসের ইন্ধনে নানা কৌশলে অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। আর এই দখলের মুখ্য হাতিয়ার হিসেবে সেখানে স্থাপন করা হচ্ছে উপজাতীয়দের নানা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা স্কুল ঘর।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]