• মঙ্গলবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৯

  • || ২৯ সফর ১৪৪৪

দৈনিক খাগড়াছড়ি

ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাকের দাপট

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২২  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে ইউরোপের দেশগুলো। মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় মানুষ পোশাক কেনা কমিয়ে দিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর হচ্ছে।

কিন্তু এর মধ্যেও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানিতে দাপট দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) ইউরোপের বাজারে ৯৫৮ কোটি (৯.৫৮ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি।

আর এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে প্রায় ধরে ফেলেছে বাংলাদেশ। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ পোশাক আমদানি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই তথ্য। রোববার এটি প্রকাশ করা হয়।

ইউরোস্ট্যাট বলছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, অন্য কোনো দেশ তার ধারেকাছেও নেই। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম। এই পাঁচ মাসে ইউরোপে ভিয়েতনাম ১৫৯ কোটি ৩৯ লাখ (১.৫৯ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা এই পাঁচ মাসে ইউরোপে ভিয়েতনামের চেয়ে ছয় গুণ বেশি পোশাক রপ্তানি করেছেন।

বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে অন্য প্রতিযোগী দেশের ধরাছোঁয়ার বাইরে চীন। ইউরোপের বাজারেও সেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি। কিন্তু সেই চীনকে প্রায় ধরে ফেলেছে বাংলাদেশ।

চলতি বছরের জুলাই-মে সময়ে ইউরোপের দেশগুলো চীন থেকে ১০ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। আর বাংলাদেশ থেকে কিনেছে ৯ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক।

২০২১ সালের এই পাঁচ মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলো চীন থেকে ৮ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক কিনেছিল। বাংলাদেশ থেকে আমদানি করেছিল ৬ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক।

২০২০ সালের জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে ৬ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল। চীনের রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাকের দাপট
২০১৯ সালের এই পাঁচ মাসে ইইউতে চীন ও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ও ৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি-মে সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩ হাজার ৯৭৯ কোটি ৬১ লাখ (৩৯.৭০ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি।

তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারি-মে সময়ে ইউরোপের বাজারে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে চীনের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তুরস্কের বেড়েছে ২০ দশমিক ৭০ শতাংশ। ভারতের বেড়েছে ২১ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে ইউরোপে কম্বোডিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ভিয়েতনামের ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া পাকিস্তানের ২৯ দশমিক ২৮ শতাংশ, মরোক্কোর ২০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ২৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হচ্ছে পোশাক। মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক থেকে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে মোট ৫২ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ৪২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।

পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইইউর বাজারে আমাদের পোশাক ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। পাঁচ মাসে ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সেটাই নির্দেশ করে।’

‘কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে খুচরা বিক্রেতারা ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি বিশ্ববাজারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সংগ্রাম করছে। অনেক ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের খুচরা বিক্রয় হ্রাস পেয়েছে, যা তাদের ইনভেন্টরি স্টক বাড়িয়েছে। এসব কারণ বিবেচনা করে, আগামী মাসগুলোতে ইউরোপের বাজারে আমাদের রপ্তানি হ্রাস পেতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।’

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]