• সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৫ ১৪২৮

  • || ১১ সফর ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

বন্ধ সরকারি পাটকল আবার চালু হচ্ছে

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।

 

বেসরকারি বিনিয়োগে চালু হচ্ছে বন্ধ থাকা দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে নতুন ব্যবস্থাপনায় পাটের পালে নতুন হাওয়া লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের এসব পাটকল ২০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হচ্ছে। এত দিন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ থাকায় একদিকে শ্রমিকরা বেকার জীবনযাপন করেছেন, অন্যদিকে পাটের বাণিজ্য সম্ভাবনা ঠিকমতো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ইজারার জন্য দরপত্রে ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে বিনিয়োগকারী চূড়ান্ত করা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) কার্যালয়ে গতকাল রোববার দরপত্র খোলা হয়। বাছাই করা তালিকা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে আজ সোমবার। এরপর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে চূড়ান্ত করার পর নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হবে। চুক্তি অনুযায়ী, অর্থ বুঝে পাওয়ার পর পাটকলগুলো হস্তান্তর করা হবে। দরপত্রে প্রতিটি পাটকলের জন্য আলাদা করে সর্বোচ্চ মাসিক ভাড়া প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।

এ মাসের মধ্যেই পাটকল হস্তান্তরের বিষয়ে আশাবাদী মন্ত্রণালয়।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দরপত্র অনুযায়ী ইজারাকালের সীমা সর্বোচ্চ ২০ বছর। বিনিয়োগকারীরা প্রতি মাসে সরকারকে ভাড়া দেবেন। দরপত্র আহ্বানের পর যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখান। এসব দেশের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে কারখানা পরিদর্শন করেছেন। পাটকলের মেশিনারিজ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্যমান নির্ধারণ, কোন কোন পণ্য উৎপাদন করা যাবে- এসব বিষয় মূল্যায়ন করা হয়েছে।

দরপত্র খোলা এবং মূল্যায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সূত্রে জানা গেছে, ইংল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের খুলনার খালিশপুরের পাটকলের ইজারা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। আরও কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগে কয়েকটি পাটকলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাছাই তালিকায় রয়েছে।

বন্ধ পাটকল উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে বিদেশি বিনিয়োগকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। গত ১৫ জুন একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। দরপত্র প্রকাশের পর দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায়। যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ তালিকায়। বস্ত্র ও পাটকল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ৫৯টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। মাসিক ভাড়ার দরপ্রস্তাবের বাইরে যোগ্যতা হিসেবে দরদাতা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, পাটপণ্য উৎপাদন ও বিপণনে অভিজ্ঞতা ইত্যাদি যাচাই করা হয়।

ক্রমাগত লোকসানের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫ পাটকলের সব বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। গত বছরের ১ জুলাই থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। কারখানার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি স্থানীয় প্রশাসন এবং বিজেএমসির তত্ত্বাবধানে রয়েছে। বন্ধ হওয়ার আগে মিলগুলোতে ২৬ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপনায় নিয়োগে পুরোনো শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দরপত্রে ঢাকা অঞ্চলের একটি পাটকলের সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, যেসব শ্রমিক কাজের জন্য উপযোগী, তাদের অবশ্যই তারা নিয়োগ দেবেন। তবে পুরোনো সব শ্রমিককে হয়তো নেওয়া সম্ভব হবে না। প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যে টিকে থাকার ক্ষেত্রে পাটের বৈচিত্র্য পণ্য উৎপাদনের দক্ষতা এবং উৎপাদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে।

বিজেএমসির চেয়ারম্যান আবদুর রউফ সমকালকে বলেন, বেরসকারি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনে আগের শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগের বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই প্রতিশ্রুতির যাতে হেরফের না হয়, সে উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এরই মধ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দরপত্র সম্পর্কে বিজেএমসির চেয়ারম্যান বলেন, অন্য কোনো ত্রুটি না থাকলে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোই প্রস্তাবিত মিলগুলো ইজারা পাবেন। মাসিক ভাড়ার বিষয়ে সরকারের একটা প্রত্যাশা নির্ধারণ করা আছে। সে অনুযায়ী ইজারা দেওয়া হবে। ইজারাদারকে দুই বছরের ভাড়া অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকল ইজারা পদ্ধতিতে বেসরকারি মালিকানায় গেলেও বিজেএমসি বিলুপ্ত হচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় পাটকল ও পাটশিল্পের ব্যবস্থাপনা সহায়কের ভূমিকা পালন করবে প্রতিষ্ঠানটি। বিজেএমসি চেয়ারম্যান এ প্রসঙ্গে বলেন, ইজারায় বেসরকারি খাতে যাওয়ার পর আর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকবে না বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এই সংস্থা। তবে এ-সংক্রান্ত সব প্রয়োজনে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবেন তারা।

গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সমকালকে বলেন, বন্ধ থাকা পাটকল উৎপাদনে এলে পাটশিল্পে গতি আসবে। কৃষক ও উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন। রপ্তানি বাণিজ্যের পালে হাওয়া লাগবে। তবে নিয়োগ, বেতন কাঠামো নির্ধারণসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের শতভাগ স্বাধীন থাকার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান মনোনীত করার প্রক্রিয়াটাও স্বচ্ছ হওয়া দরকার।

বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বিজেএমএর সভাপতি মাহবুবুল আলম পাটোয়ারী সমকালকে বলেন, প্রচলিত পণ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানে উৎপাদনে থাকা বেসরকারি মিলগুলোও সংকটে আছে। পাটের বর্ধিত দরের কারণে উৎপাদন ব্যয় এখন বেশি। এতে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতা চাহিদা কমেছে। অনেক পাটকল পণ্য মজুদ পড়ে আছে। তিনি বলেন, বন্ধ পাটকলে দেশি-বিদেশি যারাই বিনিয়োগ করছেন, তাদের অবশ্যই প্রচলিত পণ্যের বাইরে নতুন পণ্য উৎপাদনে যেতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো নির্ধারণ করে দেওয়া প্রয়োজন।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]