• শুক্রবার   ২৭ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

‘আমরা ইউপিডিএফ ছেড়ে  শান্তিপূর্ণ জীবনে ফিরতে চাই’ 

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৫ মে ২০২২  

‘আমরা শান্তিময় জীবনে ফিরতে চাই। স্বাভাবিক জীবনে সময় কাটাতে চাই। মা-বাবাদের পাশে রাখতে চাই। কিন্তু ওরা আমাদের জোর করে এসব অপকর্ম করাচ্ছে।’

ঠিক এভাবেই ২০২১ সালের ১ আগস্ট রাঙামাটির বরকলে পুলিশের কাছে ধরা পড়ার পর কথাগুলো বলেছিলেন পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর শীর্ষ সন্ত্রাসী সুরেন চাকমা। 

তবে কেবল সুরেন নন, খাগড়াছড়িতেও শীর্ষ এই সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন অন্নাসং চাকমা ও অনিল চাকমা নামের আরও দুই সন্ত্রাসী। বান্দরবানেও একই চিত্র। 

তবে অভিযোগ রয়েছে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলেও এই সংগঠনের বড় সন্ত্রাসীরা তাদেরকে অপকর্ম করতে বাধ্য করছেন। সর্বশেষ  মে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে সেনাবাহিনীর কাছে ইউপিডিএফ এর অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করেছেন সন্ত্রাসী আলো চাকমা। এ ঘটনার পর সন্ত্রাসী এই বাহিনীকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে পাহাড়ে। 

এর আগে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ও তাইন্দং এলাকাস্থ শুকনাছড়ি, ইসলামপুর, লাইফুপারা ও পংবাড়ী এলাকায় স্থানীয় বাঙালিদের ওপর ইউপিডিএফ (প্রসিত) দলের সন্ত্রাসীরা নৃশংস হামলা করেছে। 

অনেকে বলেন, ইউপিডিএফ কমান্ডার অমর ও মিলন বাহিনীর চাঁদাবাজি আর অত্যাচারে অতিষ্ঠ ফটিকছড়ি-লক্ষ্মীছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। চাঁদা না দেয়ায় তাদের হাতে খুন হয়েছেন অন্তত অর্ধডজন ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষ। ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লক্ষ লক্ষ মানুষ অমর-মিলন চাকমা বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন।

তাদের নির্যাতনের সর্বশেষ শিকার ফটিকছড়ির ব্র্যাক কর্ণফুলী চা বাগান ও বাগানের দুই ম্যানেজার। এর আগে তারা উক্ত এলাকায় অপহরণের পর হত্যা করেছে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে।

অনুসন্ধনে জানা যায়, লক্ষ্মীছড়ির দুইদ্যেখোলা, বাইন্যেছোলা এলাকায় ইউপিডিএফের নেতৃত্ব দেয় বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী। বার্মাছড়ি এলাকা ও রাঙ্গামাটির কাউখালীর এলাকায় নেতৃত্ব দেয় অপর কয়েকজন। এদের আওতায় রয়েছে প্রায় ৫শ সদস্যের সশস্ত্র প্রশিক্ষিত বাহিনী। তার মধ্যে শতাধিক নারী সদস্যও রয়েছে। 

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে প্রবীণ ব্যবসায়ী এজাহার মিয়া কোম্পানিকে অপহরণ করে ইউপিডিএফ। নানুপুরের আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ ওসমান গনি বাবু (বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান) দেন-দরবার করে ছাড়িয়ে আনেন প্রায় একমাস অতিক্রম হবার পর। চাঁদা আদায়ের সুবিধার্তে বার্মাছড়ি বাজার মধ্যছড়ি থেকে স্থানান্তর করে। 

ওই সময়ে ফটিকছড়ি-গহিরার প্রায় ১৫ ব্যবসায়ীকে একযোগে অপহরণ করে। মুক্তিপণ দিয়ে তিনদিন পর তাদের ছাড়া হয়। ২০০৫ সালের পর থেকে পার্বত্য এলাকায় বাঙালিদের ক্রয় করা গাছ বাগান, বাঁশ বাগান, কলা বাগান, হলুদ বাগান, আদা-রসুন বাগান ছেড়ে দিতে বাধ্য করছে।

কাঞ্চনপুরের কৃষক শিমুল মহাজন শম্ভু (৪৭) বলেন, আমাদের বাপ-দাদার জোত সম্পত্তিগুলো বিগত ২-৩ বছর যাবৎ উপজাতিরা দখল করছে। আমাদের তারা কৃষি কাজ করতে দিচ্ছে না। চাষাবাদ করলে চাঁদা দাবি করে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]