• রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১০ ১৪২৮

  • || ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি

ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে খাগড়াছড়ি

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২১  

  খাগড়াছড়িতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি উদ্বিগ্ন শত শত মানুষ। করোনার এই সংকটে একদিকে যেমন নেই পর্যাপ্ত সেবা, অন্যদিকে তেমনি বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি বেসরকারিভাবে করোনাসহ অন্য রোগের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হলেও দিন দিন এই সংকটের পরিস্থিতি যেন বাড়ছে। 
গত ২৪ ঘণ্টায় খাগড়াছড়িতে ৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যার আক্রান্তের হার ৩৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। এখন পর্যন্ত জেলাটিতে মোট ৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে  ১৮ জনের করোনার উপসর্গ রয়েছে। 
চলতি মাসে ৪৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।  এদিকে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও স্থানীয়দের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থবিধি না মানার ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। 
কঠোর লকডাউনের খাগড়াছড়িতে ইজিবাইক, রিকশাসহ হালকা যান চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. নূপুর কান্তি দাশ বলেন,  জ্বর, ঠাণ্ডা ও কাশি হলে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। আর স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে না মানলে করোনা আক্রান্তের হার কমানো যাবে না।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রবেশ ও বের হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে খাগড়াছড়ির প্রবেশ দ্বারে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও নানা উপায়ে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। এতে করোনা বিস্তারের ঝুঁকি বেড়েছে খাগড়াছড়ির এলাকাগুলোতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিজ বাড়িতে বা এলাকায় যেতে খাগড়াছড়ি জেলার (প্রবেশ দ্বার) মানিকছড়ি উপজেলার নোয়াবাজার চেক পোস্টে প্রবেশের নাম তালিকায় দিতে অনেকটাই যুদ্ধে নেমেছে খাগড়াছড়ির সাধারণ জনগণ। প্রতিদিন খাগড়াছড়ি জেলায় চট্টগ্রাম থেকে এসে এভাবেই হাজার হাজার লোক প্রবেশ করছেন।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাব চন্দ্র বিশ্বাস গণ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, জেলার যে কোন উপজেলা লোক অন্য উপজেলায় প্রবেশ করলে কারণ দর্শানো সহকারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমোদন লাগবে। কিন্তু মানছেন না সাধারণ জনগণ। নিজ জেলায় প্রবেশ করতে নোয়াবাজার চেক পোস্টে নাম তালিকা লিপিবদ্ধ করতে হয়। হাজার হাজার লোক নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে ভিড় করে ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছেন।
এ ভিড়ে করোনা ঝুঁকি বাড়ছে কী না জানতে চাইলে অনেকে বলেন, ‘হাজার হাজার লোক প্রবেশের অপেক্ষায়। কতজনকে ব্রেক করাবো। ব্রেক করানোর চেষ্টা করলে জঙ্গল দিয়ে হাঁটতে থাকে। আর ভোররাতে বা সন্ধ্যায় জঙ্গল দিয়ে হেঁটে যাওয়া যাত্রীদের বড়ধরনে দুর্ঘটনা। আসলে লোকজনকে নিজে সচেতন হতে হবে। এছাড়া উপায় নেই।’
 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]