• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৩ রজব ১৪৪৪

দৈনিক খাগড়াছড়ি

মাগুরায় উৎপাদন হবে ১৫০ কোটি টাকার সরিষা

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩  

বিস্তীর্ণ মাঠে চৈতালি ফসল হিসেবে শীত মৌসুমে আবাদ করা হয় সরিষার। হলুদ সরিষা ফুলে সেজে আছে মাঠের পরে মাঠ। এ যেন হলুদের গালিচা। দৃষ্টিনন্দন এমন দৃশ্য মুগ্ধ করে মন! হলুদ ফুলে মধু সংগ্রহের জন্য দলে দলে মৌমাছি উড়ে আসছে আর যাচ্ছে। সরিষা ফুলে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করলে ভালো পরাগায়নে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায়।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাগুরার ৪টি উপজেলায় এ বছর প্রায় ১৬ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে তিন হাজার হেক্টর বেশি। প্রতি হেক্টরে ১.২৩ টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় যার বাজার মূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে জেলায় এ বছর সরিষার চাহিদাও বড়েছে।

সদর উপজেলার বাল্য, ডেফুলিয়া, তেঘরিয়া, বালিয়াডাঙ্গা, বেঙ্গা বেরইল, মঘিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরিষার ফুলে মধু আহরণকে কেন্দ্র করে মাগুরায় গড়ে উঠেছে ছোটবড় প্রায় একশটি মধুর খামার। দশ বছর আগেও যেখানে খামারের সংখ্যা ছিল মাত্র ১২টি। খামারগুলিতে কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচ শতাধিক শ্রমিকের। এসব খামারে উৎপাদন হয় অন্তত দেড়শ টন মধু। বাজারে প্রতিমণ মধু ১৬ হাজার টাকা হিসেবে যা বিক্রি করে আয় হবে ৬ কোটি টাকার বেশি। 

সদরের মঘি গ্রামের সরিষা চাষি আতর মোল্যা বলেন, কয়েক বছর থেকে সরিষা চাষ করে আসছি। এ চাষে পরিশ্রম কম ফলনও ভালো। সার ও ওষুধ নিয়মিত সময়ে দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এবার ৪০ শতক জমিতে সরিষা চাষ করেছি। এখন গাছে গাছে ফুল এসেছে। আর কিছুদিনের মধ্যে ছোট ছোট গুটি গুটি সরিষা দানায় পরিণত হবে। আশা করছি খুব ভালো সরিষা পাবো।

মাগুরা বিসিকের প্রোমোশন অফিসার মো. আজহারুল ইসলাম জানান, জেলার মধুচাষিদের জন্য প্রশিক্ষণসহ ঋণ সহায়তার দেওয়ার পাশাপাশি মধুচাষের মাধ্যমে জেলার অর্থনীতি আরো বেগবান হবে বলে মনে করেন তিনি। 

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান জানান, সরিষার ক্ষেতে মৌমাছির পালনের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে স্বাবলম্বী হয়েছে কমপক্ষে একশ পরিবার। এ মৌসুমে জেলায় ৬ কোটির বেশি টাকার মধু বিক্রি করবে ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন হবে ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের সরিষা যা এখানকার অর্থনীতিতে গতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তিনি। 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]