• শুক্রবার   ২৭ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

বাঘাইছড়িতে তেজপাতা চাষে বাজিমাত, কোটি টাকা লেনদেনের আশা

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০২১  

ছবি- দৈনিক খাগড়াছড়ি।

ছবি- দৈনিক খাগড়াছড়ি।

 

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় এবার তেজপাতার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে ছোট বড় প্রায় ২০০টি তেজপাতা বাগান রয়েছে। প্রতিটি বাগানেই এবার আশানুরূপ ফলন হয়েছে, আর বাজারেও তেজপাতার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। 

ফলে মসলা ও ঔষধি গুনে সমাহার তেজপাতা চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ। পাহাড়ে মূলত মিশ্র বাগানের সাথে তেজপাতা চাষাবাদ করে থাকেন উপজাতি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ। তবে বাজারে তেজপাতার ব্যাপক চাহিদা থাকায় অনেক কৃষক আলাদাভাবে তেজপাতার চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তেজপাতা বাগান একবার করেই বছরের পর বছর ফলন পাওয়া যায়। গাছ পরিপূর্ণ হওয়ার পর থেকেই ডালপালা ছেটে তেজপাতা সংগ্রহ করা যায়। অল্প খরচে বেশী লাভজনক চাষাবাদ হচ্ছে এই তেজপাতা চাষ, বাজারে পাইকারি দরে প্রতি কেজি পাতা ৪০ থেকে ৫০ টাকা আর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে উপজেলার প্রশিক্ষণ টিলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তেজপাতা ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বাগান থেকে সংগ্রহ করা তেজপাতা স্থানীয় পাহাড়ি নারী শ্রমিকদের সহায়তায় ডালপালা থেকে আলাদা করার কাজ করছে।

তেজপাতা ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, এবার পাহাড়ে তেজপাতার ভালো ফলন হয়েছে। তাই তার ব্যবসাও ভালো হবে।

রফিকুল ইসলাম আরো জানায়, সে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে বাগান ক্রয় করে স্থানীয় শ্রমিকদের মাধ্যমে পাতা সংগ্রহ করে বাজারজাত করে পাইকারী ব্যবসায়ীদের নিকট সরবরাহ করে থাকে। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে তার ৬ সদস্যের সংসার চলে।

 

 


উপজেলার চার কিলো বাঙালী পাড়া এলাকার তেজপাতা চাষী মোহাম্মদ আলী জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনিসহ আরো ২০ জন চাষী প্রায় ৩০ একর জায়গায় তেজপাতার আবাদ করেছেন। সবমিলিয়ে এলাকায় প্রায় ৩ হাজার গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছ ১,৬০০ টাকা করে বিক্রি হলে প্রায় ৪৮ লাখ টাকার লেনদেনের আশা করা হচ্ছে।

কালামোড়া এলাকার তেজপাতা চাষী রাঙ্গু চাকমা বলেন, আমি প্রায় ২ একর জায়গায় নিজ উদ্যোগে তেজপাত চাষ করেছি। সরকারি সহায়তা পেলে আরো ভালো ভাবে চাষ করা যেতো। তাই পাহাড়ে তেজপাতা চাষীদের জন্য সরকারিভাবে সহায়তা কামনা করছি।

উপজেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, পাহাড়ে জুমচাষ বন্ধে কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর মিশ্র ফল বাগান ও বিভিন্ন ধরনের মসলা বাগান করার উপর গুরুত্ব আরোপ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ে তেজপাতা চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ পরামর্শ প্রদান করলেও তেজপাতা চাষে আলাদা কোন প্রকল্প না থাকায় সার, বীজ ও কিটনাশক দিয়ে সহায়তা সম্ভব হয়নি। তবে বাঘাইছড়িতে এবার কোটি টাকার তেজপাতার কেনাবেচার সম্ভাবনা রয়েছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]