• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৩ রজব ১৪৪৪

দৈনিক খাগড়াছড়ি

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িরা এখন স্বাবলম্বী

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর ২০২২  

মলয় চাকমার বাবা বান্দরবানের লামার বাসিন্দা। পাহাড়ের ঢালুতেই তাদের বাড়ি। বাবা কখনও ভাবেননি তার সন্তান সোনালি ব্যাংকের ম্যানেজার হয়ে দু:খ ঘুচাবে। তার ভাষায়, ‘আমাকে এখন কৃষিকাজ করতে হয় না। ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিতে হয় না। ছেলে চাকরি করে তাতেই খুশি।
২৫ বছর আগেও চিত্রটা ছিল ভিন্ন। ৩ পাহাড়ের বেশির ভাগ মানুষ কাজ করতেন কৃষিতে। চাকরি-বাকরি নিয়ে এই অঞ্চলে তেমন আগ্রহ ছিল না বললেই চলে। অবশ্য হবে-ই বা কী করে? এখানে তেমন গড়ে উঠেনি কোনো ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন। ছিল না সরকারি প্রতিষ্ঠান। 
শান্তিচুক্তির পর এই অঞ্চলে বদলে যেতে থাকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র। আগে এখানে আঞ্চলিক দলগুলোর তান্ডবে মানুষ ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারতো না। ৯০% মানুষ দরিদ্র সীমার নীচে বসবাস করত। 
অথচ শান্তিচুক্তির পর সরকার তাদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। ৫৫% জনগণ এখন চাকরি, ব্যবসা আর কৃষিতে নিয়োজিত রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রবাস গমণের মাধ্যমেও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন করছে এই ৩ অঞ্চলের বাসিন্দারা। 
এখন জেলা পরিষদ সেখানকার নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ৭টি বড় প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করেছে ৩ পাহাড়ের মানুষ। বিশেষ করে দু:স্থ মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ এবং তাঁত শিল্পে উৎসাহিত করার জন্য রেয়ন সুতা ও মেশিনারী বিতরণ করা হয়। 
কাপ্তাই লেকের মাছ আহরণ এখন সবার নজরে। এখানকার সুস্বাদু মাছ যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রমিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। যার সুফল ভোগ করছে অন্তত ২২ হাজার মৎস্যজীবী। এ ছাড়া কাঠ, বাঁশ এবং বাঁশের তৈরি ফার্নিচার সারাদেশে পাঠিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। 
পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষি ও মৎস্য চাষ উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণে দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি  জেলার ২৫টি উপজেলায় দুদপাহাড়ের মাঝে ক্রিকের (ঘোনায় মাছ চাষের জন্য বাঁধ) মাধ্যমে মৎস্য চাষের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে প্রায় দুদশ ক্রিক নির্মাণ করা হয়েছে। 
এসব ক্রিক নির্মাণের ফলে পার্বত্য এলাকায় মাছ চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আইসিটি ভিত্তিক কর্মসূচী হাতে নিয়েছে সরকার। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বেকার জনগোষ্ঠীকে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবলে রূপান্তর করে আত্ম-কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। শান্তিচুক্তির সুফলে গোটা পার্বত্যাঞ্চল বলেছেন সেখানকার সব শ্রেণীর মানুষ। 

 
 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]