• মঙ্গলবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৯

  • || ২৯ সফর ১৪৪৪

দৈনিক খাগড়াছড়ি

আদিবাসী দাবি করে কি বলতে চাইছে তারা?

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২২  

বাংলাদেশের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর এই আদিবাসী দাবি শুরুতেই দেশের মধ্যে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করে। যেখানে এ ঘোষণাপত্রের আগে তারা নিজেদেরকে আদিবাসী পরিচয়ে পরিচয় করাতে চায়নি। তাদের হঠাৎ এমন আদিবাসী পরিচয় দেয়াটা বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস, অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্বের উপর বড় ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন। বিশ্বের সকল ঐতিহাসিক, নৃতাত্ত্বিক, প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী বাংলাদেশের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর কেউই বাংলাদেশে স্মরণাতীত কাল থেকে বসবাস করছে না। তাদের সকলেই বহির্বিশ্ব বিশেষ করে ভারত ও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বিভিন্ন সময়ে। এই অনুপ্রবেশও স্মরণাতীত কাল পূর্বে ঘটে নাই। মাত্র কয়েকশ’ বছর পূর্বে ভারত ও মিয়ানমার থেকে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উপরন্তু বাংলাদেশের এই উপজাতীয় জনগোষ্ঠী তাদের আদিনিবাস ভারত ও মিয়ানমারেও আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃত নয়। এক শ্রেণীর মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে আদিবাসী বলে ব্যাপকভাবে প্রচার করছে। এক কথা বললে এরা মূর্খ। এদের কারো অ্যানথ্রোপলজি ,সোসিওলজি, ইতিহাস, ভূগোল ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, আদিবাসী ও উপজাতি সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। আর যারা জেনে বুঝে এ কাজ করছে তারা বিভিন্ন পারিতোষিক, বৃত্তি, উচ্চ বেতনের চাকরির লোভে করছে। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা, এনজিও কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর প্রভাবশালীরা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এমন মিথ্যাচার করছে। কাজেই আমাদের সকলকে এই বিষয়টিতে সতর্ক হতে হবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের আদিবাসী বলা বন্ধ করতে হবে। এদেশের সকল নাগরিকের মত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরাও বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের অল্প কিছুদিন আগে থেকে দাবিকৃত আদিবাসী হওয়ার প্রবল ইচ্ছা আসলে জাতিসংঘের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্রের বিভিন্ন ধারা থেকে ভবিষ্যতে ফায়দা লোটার কৌশল। এ কৌশলের ফাঁদে পা দেয়া ভয়ঙ্কর এবং বিপদজনক। কারণ, তাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ তার এক দশমাংশ ভূমির মালিকানা হারাতে পারে। যার সাথে আমাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িত। আমাদের সকলকে সতর্ক হতে হবে এদেশের বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের আদিবাসী বলা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকায় গারো, হাজং, সাঁওতাল, ওরাঁও, রাজবংশী, মনিপুরী, খাসিয়া প্রভৃতি জনগোষ্ঠী রয়েছে। এদের অধিকাংশেরই বৃহত্তর অংশ রয়েছে প্রতিবেশী ভারতে। ক্ষুদ্রতর একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে আগে-পরে বাংলাদেশে এসেছে। তবে এদের কোনোটিই বাংলাদেশের আদিবাসিন্দা বা ‘আদিবাসী’ নয়। এই সকল জনগোষ্ঠীর প্রধান দাবি তাদের পৃথক জাতিসত্তার স্বীকৃতি। সরকার এসব জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের সামগ্রিক জাতীয় পরিচয়ে তাতে কোনো সমস্যা দেখা দেয় না।   আমরাও তাই বলি। সবারই দেশ হোক একটাই-বাংলাদেশ। আদিবাসী দাবি করে যারা নিজেদের আলাদা রাষ্ট্রের বাসিন্দা ভাবছেন, তারা আর যাই হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না। 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]