• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ১ ১৪২৯

  • || ১৭ মুহররম ১৪৪৪

দৈনিক খাগড়াছড়ি

পদ্মাসেতু তো হয়ে গেল: বিএনপি এখন কি করবে? 

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২২  

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া নাকি পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা বলেছিলেন। এমন কথা শতাব্দীর জঘন্যতম মিথ্যাচার। পদ্মা সেতু নির্মাণের মূল সুর তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার কন্যা তা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। পদ্মা সেতু হলো সক্ষমতার সেতু, এ নিয়ে অপপ্রচার চলছে। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ জুন পদ্মাসেতুর উদ্বোধন করেছেন। দেশের সচেতন মহলের প্রশ্ন এখন, তাহলে বিএনপির কি হবে? বিএনপি এই সেতু না হওয়ার পেছনে যে ধরণের জোরালো ভূমিকা রেখেছে তা আজ থেকে ঘৃণিত হয়ে থাকবে ইতিহাসে। কি করেনি তারা সেতু না হওয়ার জন্য! 
অথচ পদ্মা সেতু বাঙালি জাতির সমৃদ্ধির পথে যোগ করল এক নতুন মাত্রা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত খরস্রোতা ও স্রোতস্বিনী নদীগুলোর মধ্যে আমাজনের পরেই পদ্মার নাম। সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশ্বে যত রকমের জটিল ও সূক্ষ্ম প্রযুক্তি রয়েছে, তার বেশির ভাগ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে এবং নতুন কিছু পরীক্ষামূলক পদ্ধতিও গ্রহণ করা হয়েছে নির্মাণের ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বলা হয়েছে এমন আরেকটি সেতু হয়তো আগামী ১০০ বছরেও নির্মিত হবে না। এই সেতু নির্মাণের পূর্বের ঘটনাসমূহে পুরো বাঙালি জাতি বিব্রত। ছি ছি বলছে আজ। জাতি হিসেবে বাঙালিদের মুখে চুনকালি পড়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। মিথ্যা অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক এই সেতুর জন্য অর্থায়ন না করেও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করেছিল। 
তারা দুর্নীতির গন্ধ পেয়ে এই সেতুর অর্থায়নে শুধু নিজেদের গুটিয়ে নেয়নি, বরং দুর্নীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রাজনীতি করেছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। তথাকথিত অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে কূটকৌশল করেছে আর সেই সুযোগে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ ত্বরান্বিত হয়েছে। 
দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও বহুপক্ষীয় ঋণ দানকারী সংস্থাগুলোকে লবিস্ট নিয়োগ করে বিরুদ্ধাচারণ করেছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১১ এপ্রিল ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত ঋণচুক্তি দুর্নীতির অভিযোগে ৩০ জুন ২০১২ সালে বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। এসব কাহিনি আমাদের সবার জানা। আর সব কিছুর পেছনে বিএনপি জামায়াতের সরাসরি সমর্থন জাতি প্রমাণ পেয়েছে। এই গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে দেশের কিছু স্বার্থবাজ বুদ্ধিজীবী মহল। যারা পলাতক তারেক রহমানের মদতে এসব কাজ করেছে সুকৌশলে। 
পদ্মাসেতু নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল এবং দলের নেতারা এখনও গভীর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের সহযোগিতায় সম্ভাব্যতা যাচাই ও সমীক্ষা করিয়ে ২০০১ সালের ৪ জুলাই, মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ২০০১ সালে অক্টোবরে ক্ষমতায় এসে বিএনপি মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে সেতু নির্মাণ বাতিল করে।
খালেদা জিয়া পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর কখনোই স্থাপন করেননি। বাংলাদেশের কোনও গণমাধ্যম অনুসন্ধান করে কোথাও খালেদা জিয়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কোনও চিহ্নই খুঁজে পায়নি।
খালেদা জিয়া পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে এমন বানোয়াট দাবির কিছু দিন আগেই ফখরুল বলেছিল পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ ‘অপ্রয়োজনীয়’, যা একেবারেই উল্টো কথা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সবাই এখন একবাক্যে লিখছে, পদ্মাসেতু তো হয়ে গেল, বিএনপি এখন কি করবে। সত্যি তো বিএনপি এখন কি করবে?-এ প্রশ্ন সবার!

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]