• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ১ ১৪২৯

  • || ১৭ মুহররম ১৪৪৪

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রধানমন্ত্রী তো একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন!

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২২  

পদ্মাসেতু নিয়ে দেশের স্বার্থনেষী মহলের ষড়যন্ত্র কম হয়নি বইকি! তবে আশার কথা হচ্ছে, পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ের মতোই উড়ে গেছে দেশবিরোধীদের সব চক্রান্ত।  ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করার পর পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। 
এর অর্থায়নসহ নির্মাণ সম্ভাব্যতার প্রাসঙ্গিক সব দিকই বিদেশি এবং দেশীয় বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সম্পন্ন করার পর যখন নির্মাণকাজে হাত দেয়ার প্রস্তুতি চলছিল তখনই পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে থাকে। 
পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু হওয়ার বেশ আগে থেকেই দুর্নীতির নানা কল্পকাহিনী দেশে প্রচার করতে থাকে। সেই কল্পিত দুর্নীতির গুজব, প্রচার, প্রচারণা দেশে-বিদেশে সর্বত্র যেন বিনোদনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পত্রপত্রিকায় পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ইঙ্গিত করে নানা দুর্নীতির কেচ্ছা-কাহিনী প্রচারিত হতে থাকে। যোগাযোগমন্ত্রী, সচিব, অর্থ উপদেষ্টা সবাই তখন যেন পদ্মা সেতুর টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে খাচ্ছিলেন! অথচ বিশ্বব্যাংক, জাইকা, এডিবি, আইডিবিসহ কোনো দাতা সংস্থাই তখনো অর্থ ছাড় দেয়ার পর্যায়েই যায়নি। 
তার আগেই পদ্মা সেতুর টাকা, নির্মাণসংক্রান্ত ভাগ-বাটোয়ারা এমনভাবে প্রচারিত হচ্ছিল যেন সরকারের সবাই সবকিছু নীরবে দেখছিল, নানা গুজব ও অপপ্রচারও তখন গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। শহর, গ্রাম, গ্রামের হাটবাজারে, চায়ের দোকানে পদ্মা সেতুর টাকা ভাগাভাগির গল্প সবচেয়ে রসালো বিষয়ে পরিণত হতে থাকে। 
খুব পরিকল্পিতভাবে এসব গুজব এবং অপপ্রচার ছড়ানোর জন্য একাধিক মহল, অসংখ্য ব্যক্তি যেন ঘুরে ঘুরে অপপ্রচারে মানুষকে বিভ্রান্ত করার দায়িত্ব পালন করছিল। কিন্তু তাদের সেসব গুজব টেকেনি বেশিদিন। 
স্বপ্ন এবার হলো সত্যি। পদ্মা সেতু দেশবাসীর করের টাকায় এবং সমর্থনে নির্মিত জাতীয় আত্মবিশ্বাস, সক্ষমতা ও গৌরবের প্রতীক। জাতীয় অর্থনীতিতে পদ্মা সেতুর গুরুত্ব, তাৎপর্য এবং উপযোগিতা অপরিসীম। 
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিশ্বের সেরা গহিন গরান বন সুন্দরবন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা ও পায়রা, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম বৃহত্তম বিভাগীয় শহর খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর, বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল ও ভোমরা থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগ ব্যবস্থার অনুন্নয়নের কারণে সদ্য ঘোষিত পদ্মা বিভাগের ৫টি, খুলনা বিভাগের ১০টি এবং বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ শিল্প স্থাপন খাতে তেমন কোনো উন্নতি সাধিত হয়নি। এক যুগ আগে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণে ব্যাপক অগ্রগতি হলেও একই সঙ্গে পদ্মায় সেতু নির্মিত না হওয়ায় উক্ত অবকাঠামো যথা উপযোগিতায় আসছিল না। 
এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের সেইসব চাওয়া পূরণ করেছেন। তিনি এ দেশকে ভালোবাসেন। সবাইকে সুখেই রাখতে চান প্রিয় বাংলাদেশে। পদ্মাসেতুর মতো এমন একটি দু:সাহসিক কাজ যিনি সাধ্য করেছেন, তিনি তো একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন!

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]