• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ১ ১৪২৯

  • || ১৭ মুহররম ১৪৪৪

দৈনিক খাগড়াছড়ি

পদ্মাসেতু আমাদের স্বপ্ন পূরণের ‘স্বপ্নসারথি’ 

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২২  

দেশের অর্থনীতির নতুন দুয়ার স্বপ্নের পদ্মাসেতু। বদলে যাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার। সত্যি কথা কি! দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পুরো প্রভাব পড়বে দেশের সমগ্র অর্থনীতির রাজস্বে। দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে এক দশমিক ২৩ শতাংশ অবদান রাখবে এ সেতু। আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
তবে অর্থনীতিবিদরা যেমনটা বলেছেন, পদ্মার দু পাড়ে চাই অর্থনৈতিক বিনিয়োগ। মনোযোগ বাড়াতে কলকারখানা স্থাপনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথার সূত্র ধরেই আমরা বলতে চাই, পদ্মা সেতু আমাদের গর্ব, অহঙ্কার, সক্ষমতা ও মর্যাদার প্রতীক। অনেক বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে প্রমত্তা পদ্মার বুকে আজ বহু-কাঙ্ক্ষিত সেতু দাঁড়িয়ে গেছে।
এই সেতু কেবল নিছক কোনো ব্রিজ নয়। এ সেতু মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মার বন্ধন। ভালোবাসার বন্ধন। এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। 
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যত বেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে, জিডিপিতে এর অবদান তত বেশি হবে। পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের পণ্য আমদানি সহজ হবে। মালামাল দ্রুত সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাবে। প্রবৃদ্ধি এক থেকে সর্বোচ্চ দুই শতাংশ বাড়বে।
পদ্মা সেতুর মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হবে, যা অর্থনীতিকে নতুন মাত্রা দেবে। এই বৃহৎ অঞ্চলে গড়ে উঠবে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ইপিজেড। পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। সারাদেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ২১টি জেলা দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব জেলায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রয়েছে। বিশদভাবে বলতে গেলে এই সেতু দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ, বাণিজ্য ও পর্যটনসহ অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পদ্মা সেতুর কারণে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দর ও বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের গুরুত্ব বাড়বে। সেতু চালু হলে এ দুটি বন্দর দিয়ে আসা পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে। ফলে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে। বর্তমানে মোংলা বন্দরে বছরে ১ হাজার ৫০০টি জাহাজ এবং প্রায় ১ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে। তবে ব্যবহার হচ্ছে সক্ষমতার অর্ধেক। পদ্মা সেতু চালু হলে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ অনেক বাড়বে। এ কারণে জাহাজের ধারণক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৫ সাল নাগাদ বন্দরে তিন হাজারের মতো জাহাজ ভিড়তে পারবে। বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে আত্মমর্যাদাশীল একটি জাতি হিসেবে তার বিকাশে পদ্মা সেতু হবে আত্মমর্যাদা ও অর্থনীতির ভিত রচনার প্রতীক। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মানুষের অনাগত স্বপ্ন পূরণের স্বপ্নসারথি। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক মন্তব্যে বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু শুধু একটি স্থাপনা নয়। এটি এখন বাঙালি জাতি তথা বাংলাদেশের গর্ব, আত্মমর্যাদা ও অহংকারের প্রতীক। এই সেতু নির্মাণের কৃতিত্ব প্রতিটি বাঙালির, আপনার, আমার, আমাদের সবার।’ তিনি লিখেছেন, এই সেতু নির্মাণের ফলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নদীবেষ্টিত ভূখণ্ড সরাসরি রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।কেউ কেউ বলেছিলেন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পর্যন্তই। সেতু হবে না। কেউ বলেছিলেন, জোড়াতালির সেতু, কেউ উঠবেন না। যারা বলেছিলেন, পদ্মা সেতু হবে না, সম্ভব না। আজ পদ্মা সেতু বাস্তব। আজ উদ্বোধন। তারা কিন্তু একটিবারের জন্যও ভুল স্বীকার করেননি।  এ দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ উন্নত দেশে রূপান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে ও জাতীয় একতা বৃদ্ধিতে এই সেতু মেলবন্ধন হিসেবে কাজ করবে-এমনটা চাওয়া পুরো বিশ্ববাসীর। 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]