• শনিবার   ২৫ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

‘বিপদে সেনাবাহিনীকে কাছে পাই আমরা’

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২২  

‘আমাদের বড় ধরণের কোনো বিপদ হলে সেনাবাহিনীর লোকজন এসে পাশে দাঁড়ায়। পানি নেই। খাবার নেই। তারা এসে আমাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে। তাদের সহযোগিতা ভোলার নয়।’
ঠিক এভাবেই কথাগুলো বললেন খাগড়াছড়ির রামগড়ের স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল চাকমা। তার কথার মতো একই রকম অভিমত ব্যক্ত করলেন বান্দরবানের লামার বাসিন্দাল দেওয়ান ত্রিপুরা। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রচুর সহযোগিতা করেছেন আমাদের। কিছুদিন আগে করোনায় আমরা প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়ি। অন্তত ২০ জন লোক এলাকার। কোনো ধরণের ভয় ছাড়াই তারা আমাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ চিত্র ভুলবো না।  
জানা যায়, গত ২৫ মে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্পগুলোতে আর্মড পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে এমন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেছেন, তার আগে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় পুলিশের এপিবিএন সদর দপ্তর স্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্পগুলোতে এপিবিএন পুলিশের ক্যাম্প সম্প্রসারনের কাজ শুরু হবে। 
তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় যেখানে যে বাহিনী প্রয়োজন হবে, সেখানে সেই বাহিনী মোতায়েন করা হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে র‌্যাবসহ আরো বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হবে।  আমাদের পুলিশ অনেক সক্ষম পুলিশ এখন যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।’
তার এই কথায় অধিকাংশ পাহাড়ের বাসিন্দারা বলেছেন, পুলিশ নয়, সেনাবাহিনী পারে সবার ভেতর শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে। জানা যায়, পিছিয়ে পড়া পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে পাহাড়ে সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকারপূর্বক সহায়তা প্রদান করেছে স্বাধীনতার জন্য নিবেদিত প্রাণ রাষ্ট্রের মুকুট বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। 
সেনাবাহিনী সূত্র জানিয়েছেন সম্প্রতি গত দুই বছরে সারাদেশে টানা বৃষ্টিপাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার সাথে সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামেও হয়েছে ছোট বড় পাহাড় ধস, বন্যা। আর এ সময় সাধারণ পাহাড়বাসী যারা বন্যা ও পাহাড় ধসে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন তাদের পাশে সর্বপ্রথম মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।  সেনাবাহিনীর একাধিক রিজিয়ন বন্যার শুরু থেকে শেষ অবধি খাবার পানি, শুকনা খাবার খিচুড়ি, চিকিৎসাসহ নানা ধরনের সহায়তা নিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকির মধ্যেই ঘুরে বেড়িয়েছে পুরো জেলা। বলা যায় সৃষ্টিকর্তার মহিমা ও সেনাবাহিনীর পরিশ্রমের কারণেই এবারের পাহাড় ধস ও বন্যায় বান্দরবানে তেমন উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়নি জন-মানুষের।
একইভাবে খাগড়াছড়ি এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন দূর্গম এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনের অনুরোধক্রমে ৩৬০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের জন্য সরকারি ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে সেনাবাহিনী। ‘আর্মি এভিয়েশন’ এর একটি  হেলিকপ্টারযোগে এসকল দুর্গম এলাকায় বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এভাবেই পাহাড়ের মানুষের পাশে দিনরাত কাজ করছে বাহিনীর সদস্যরা। 
 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]