• শনিবার   ২৫ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

অভিমত সবার

পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর বিকল্প নেই

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২২  

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফেরাতে সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই বলে অভিমত দিয়েছেন ৩ পাহাড়ের বাসিন্দারা। তারা বলেছেন, আইনশৃৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী পুলিশের পাশাপাশি এই অঞ্চলের সবকটি জায়গাতে সেনাবাহিনীর শক্তি আরও জোরদার করা হোক। কেননা সব ধরণের অপরাধ কমাতে এবং শান্তি বজায় রাখতে তাদের সাহসী ভূমিকা প্রশংসনীয়। 
গত ২৫ মে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্পগুলোতে আর্মড পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে এমন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি বলেছেন, তার আগে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় পুলিশের এপিবিএন সদর দপ্তর স্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্পগুলোতে এপিবিএন পুলিশের ক্যাম্প সম্প্রসারনের কাজ শুরু হবে। 
তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় যেখানে যে বাহিনী প্রয়োজন হবে, সেখানে সেই বাহিনী মোতায়েন করা হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে র‌্যাবসহ আরো বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হবে।  আমাদের পুলিশ অনেক সক্ষম পুলিশ এখন যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।’
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের বাসিন্দারা সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং প্রয়োজনে নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করছে। 
পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ সংযম, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পরিচয় দিয়ে আসছে দেশ মাতৃকার বীর সেনানীরা। জীবন বিসর্জনের বিনিময়ে পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া উপজাতিদের উপহার দিচ্ছে ভালোবাসা, সম্প্রীতির মেলবন্ধন ও বাড়িয়ে দিচ্ছে সহায়তার হাত। পাহাড়ে সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর তারা। যেন নিরাপত্তাবাহিনীই পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি আর উন্নয়নের ঠিকাদার। পার্বত্য চট্টগ্রামেরর এমন কোন জায়গা বাদ নেই যেখানে সেনাবাহিনীর হাতের স্পর্শে উন্নয়ন ও সহায়তা পৌছেনি। 
পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্র সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ, কালভার্ট-ব্রীজ, রাস্তাঘাট নির্মাণ থেকে শুরু করে বসতবাড়ি উপহার, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্য চিকিৎসা সেবা, চক্ষু শিবির, আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ পাহাড়বাসীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যেন সেনাবাহিনী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারক ও বার্তা বাহক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে পর্যন্ত কুণ্ঠাবোধ করেন না।
পার্বত্য অঞ্চলকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি এ অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বান্দরবান রিজিয়নের জিটু আই মেজর ইফতেখার হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন, অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি এ অঞ্চলের অসহায়-গরীব মানুষের পাশে থেকে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। 
তিনি জানান পার্বত্য চট্টগ্রামে তথা বান্দরবানে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভবিষ্যতেও যেকোন দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকবে সেনাবাহিনী।
 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]