• শনিবার   ২৫ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

পাহাড়ে রক্তপাত, হানাহানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করবে সরকার

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২২  

ছবি- দৈনিক খাগড়াছড়ি।

ছবি- দৈনিক খাগড়াছড়ি।

 

পাহাড়ে রক্তপাত, হানাহানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে যা কিছু করা প্রয়োজন সরকার তার সব কিছুই করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি। 

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। এটিকে আমরা এবার বিশেষ নজর দিয়েছি। তাই পাহাড়ে সন্ত্রাস, হানাহানি, রক্তপাতসহ চাঁদাবাজি বন্ধে যা কিছু করা প্রয়োজন সরকার তার সবকিছুই করা হবে। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) দুপুরে রাঙ্গামাটি সুখী নীলগঞ্জে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস্ পার্বত্য আঞ্চলিক দপ্তর ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চুক্তির আলোকে পাহাড়ে শান্তি ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশের এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা পাহাড়ের যে সব ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হয়েছিল সেসব ক্যাম্পের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। 

তিনি বলেন, “আমাদের টার্গেট হলো বাংলাদেশে আমরা কোন চাঁদাবাজি করতে দিব না, কোন রক্তপাত হতে দিব না। কেন এই তিন জেলায় রক্তপাত হবে? এই ভালো মানুষগুলো নিহত হবে। আপনাদের (পাহাড়ের) প্রত্যেক জেলায় আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরেছি, অনেক সাদাসিধে মানুষ আপনারা। কোন ডিমান্ড নেই। আপনারা অত্যন্ত শান্তি প্রিয় মানুষ। তাহলে কেন এই রক্তপাত- সেটাই জিজ্ঞাসা। আপনাদের কাছে আমরা ওয়াদা করছি, পুলিশ বাহিনী আপনাদের পাশে থাকবে। আপনারা যে যেভাবে পারুন প্রতিরোধ করুন, সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আমাদের জানান।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি ঘোষনা দিয়ে বলতে চাই, পাহাড়ে রক্তপাত,চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামে ইন্টিলিজেন্স বাড়াবো, আমাদের যা যা করার দরকার আমরা করবো। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে যে চিন্তা করেছি সেটি আমরা বানিয়ে ছাড়বো। আমরা পৃথিবীতে দেখিয়ে দিবো বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে; পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দারাও পিছিয়ে নেই। 

আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, “আমরা অবশ্যই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ; যারা নামে-বেনামে চাঁদাবাজি করছে, রক্তপাত করছে তাদের আইনের মুখোমুখি করব। এটাই আমাদের ওয়াদা। তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে। আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতেও হবে। এই তিন জেলা অপার সম্ভাবনার জায়গা। পাহাড়ের কাজু বাদামের সফলতা দু-এক বছরের মধ্যে দেখতে পারবেন। এই যে সফলতার দেশ, শান্তি প্রিয় মানুষগুলোর দেশ; এখানে কেন রক্তপাত কেন? তাই আমাদের সরকারিভাবে যা করণের, আমরা করছি। 

জনপ্রতিনিধিদের কথা উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, এখানকার তিন এমপি এবং আরও যারা আসছেন- সবারই এক কথা, এগুলা বন্ধ করতে হবে। সবাই যখন চাচ্ছেন, আশাকরি আমরা অবশ্যই সফল হব, সফল হতেই হবে। আমরা পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছি আমরা অনেক কিছুই পারি। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান তিন জেলাটা সুন্দর, শান্তি-শৃঙ্খলার হোক, আপনারাও চান, তাহলে হবে না কেন?  আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। এখন শুনছি, আমাদের বাঙালি ভাইয়েরাও নাকি তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আপনাদের চরম বিপর্যয় চলে আসবে; আমরা যদি এসবের প্রমাণ পাই। তিনি বলেন, আমি ঘোষণা দিয়ে বলতে চাই, এখানে রক্তপাত-চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য যা যা করা দরকার আমরা তাই করব। এটাকে সম্ভাবনাময়ী এলাকা হিসেবে আমরা যা চিন্তা করেছি সেটা বানিয়ে পৃথিবীতে দেখিয়ে দিব।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ আখতার হোসেন এর সভাপতিত্বে সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি, খাগড়াছড়ি জেলার সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য বাসন্তি চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায়, সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন বক্তব্য রাখেন। 

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

এসময় খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে সরকারের পাশাপাশি এ অঞ্চলে বসবাসরত প্রায় ১৬ লক্ষ পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান। তিনি পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে গুচ্ছগ্রামে মানবেতর জীবন-যাপন করা অসহায় বাঙালিদের পাহাড়ের পূনর্বাসনের জন্য সরকারের সৃদুষ্টি কামনা করে বলেন, এখানে পাহাড়ি-বাঙালি সকলে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে। বাঙ্গালীরা যাবে কোথায়? আমি চাই, আজকে মাননীয় মন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ আবেদন রাখতে চাই, এখানে যে বাঙ্গালীরা আছে , এ বাঙ্গালীরা যাবে কোথায়? তাদেরকে অন্তত শান্তিপূর্ণ বসবাস করতে পারে এমন স্থানে পূনর্বাসনের , স্থায়ী পূনর্বাসনের  ব্যবস্থা নিতে হবে। গুচ্ছগ্রামে থেকে তারা আর কত কষ্ট করবে? তাছাড়া পাহাড়ে তো আর থাকার জায়গার অভাব নাই। পাহাড়ে অনেক জায়গা রয়েছে।

তিনি সন্ত্রাস নির্মূলে পাহাড়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্নস্তরে কাজ করা হেডম্যান-কার্বারীদের সহায়তাও কামনা করেন। 

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তি চাকমা বলেন, শান্তির জন্য ২রা ডিসেম্বর শান্তি চুক্তির মাধ্যেমে যে সুবাতাস পাচ্ছি। আপনারা সন্ত্রাসীদের অবশ্যই খুঁজে বের করবেন। কিন্তু সন্ত্রাসী খুঁজে গিয়ে সাধারণ গ্রামবাসী যেন হয়রানি না হয় এ অনুরোধ ব্যক্ত করেন তিনি।

এছাড়া পুলিশ প্রধান ড. বেনজীর আহমেদ, রাষ্ট্রকে যারা চ্যালেঞ্জ করে তারা আহাম্মক মন্তব্য করে পাহাড়ের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি স্থাপনে যেকোন আলোচনায় পাহাড়ে বসবাসকারী উপজাতীয় জনগনের পাশাপাশি  অ-উপজাতীয় বাঙ্গালী জনগণকেও সম্পৃক্ত করতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়া পার্বত্য কোটা পাহাড়ে বসবাসকারী সকলের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিষয়ে চাকমা সার্কেল চীফ বলেছেন, এ অঞ্চলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তথাকথিত রাজনৈতিক দলের অকাম্য ভূমিকার অবসান আনতে হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যথাযথ ডাক পেলে নাগরিক ও জাতিসত্ত্বাদের মৌলিক অধিকারকে তুলে রাখলে, যথাযথ শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হয়ে পারে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাকে ২রা ডিসেম্বর ১৯৯৭, ১০ বছরের অধিক জঙ্গলে থাকা তৎকালীন জনসংহতি সমিতি এসেছে তাঁর প্রতি আস্থা রেখে। তখন যদি হতে পারে, এখন না হওয়ার কোন কারণ দেখি না। কিন্তু কেবল সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাঁকালে এ সমস্যা সমাধান হবে না বলেও জানান তিনি।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ মামুন, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন, এপিবিএনের আইজিপি হাসানুল হায়দার, ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগণ, তিন পার্বত্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারগণসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাঙামাটিতে ডিআইজি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের আঞ্চলিক দপ্তর ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ের এর ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন করেন।

উল্লেখ্য, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনা করা ক্যাম্পসমূহগুলো রাঙ্গামাটির আঠারো মাইল ক্যাম্প (১৮ এপিবিএন), বান্দরবানের রাবার বাগান ক্যাম্প (১৯ এপিবিএন) ও খাগড়াছড়ির পুরাতন পক্ষীমোড়া ক্যাম্প (২০ এপিবিএন)৷ এছাড়া রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি- এই তিন জেলায় ব্যাটালিয়ন হেড কোয়ার্টার্স এবং রাঙ্গামাটিস্থ পার্বত্য জেলাসমূহের কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]