• শনিবার   ২৫ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

`সীমান্ত সড়ক` বদলে দেবে পাহাড়ের জীবন

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২২  

‘সীমান্তের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অনেক জায়গা দুর্গম। অনেক জায়গায় যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। অনেক বাধা মোকাবেলা করতে হয়েছে। যে কারণে প্রকল্পের প্রথম দিকে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। আমরা আশা করছি, প্রকল্পটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে’।
ঠিক এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন খাগড়াছড়ি সদরের স্কুল শিক্ষক তর্ক ত্রিপুরা। তিন পার্বত্য জেলার সীমান্ত সড়ক নিয়ে জানতে চাইলে এভাবেই দৈনিক খাগড়াছড়িকে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। 
তার মতো এমন আরও অনেক পাহাড়ি বাঙালি সীমান্ত সড়ক নিয়ে আশাবাদের কথা বলেঝেন। ইতিমধ্যে ৩ পার্বত্যঅঞ্চলে ১১শ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১৭শ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩১৭ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ শুরু করেছে। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্তের মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান বন্ধসহ পর্যটন শিল্পে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
 প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি, বরকল ও রাজস্থলী উপজেলা; খাগড়াছড়ি জেলার বাঘাইছড়ি; বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে ঠ্যাগামুখ-লইতংপাড়া-থানচি-দুমদুমিয়া-রাজস্থলী পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার, সাজেক-দোকানঘাট-ঠ্যাগামুখ পর্যন্ত ৯৫ কিলোমিটার, সাজেক-শিলদা-বেতলিং পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার এবং উখিয়া-আশারতলী-ফুলতলী পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা সুরক্ষার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির লক্ষ্যে সীমান্ত সড়ক প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পুরো প্রকল্পে ১১শ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। তিন পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়ে এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন সীমান্ত সড়কটি নির্মিত হলে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের আরো বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি ভারত ও মিয়ানমারের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।
 মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালানসহ সব ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধে এক কথায় পাহাড়ের নিরাপত্তায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত রেখায় বাংলাদেশের নজরদারি পাকাপোক্ত করতে ১৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় এগারোশ’ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মিত হলে পাহাড়জুড়ে অপরাধের অভয়ারণ্যে সৃষ্টি হবে ভিন্ন পরিবেশ। 
পাশাপাশি নিরাপত্তা সুরক্ষিত হওয়ার বিষয়টি ছাড়াও গড়ে উঠবে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে। কাজের তত্ত্বাবধান করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। 
প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তরেখা জুড়ে দেশের এক-দশমাংশের পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের বহুমুখী অপকর্ম ঘটে আসছে বহু আগে থেকে। 
 এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উল্লেখ্য, সবুজের পাহাড়। প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্য নিয়ে তিন পাহাড়ের অবস্থান। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা চিটাগং হিলট্রাক্টস গঠিত। 
তিন জেলার মোট আয়তন ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে এ তিন জেলার উন্নয়ন কাজে ইতোপূর্বেকার তুলনায় রেকর্ড গড়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এগিয়ে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনমানুষ সাধারণত কৃষি কাজ, ফলদ ও বনজ সম্পদ এবং জুম চাষ নিয়েই জীবিকা নির্বাহ করে। এখানে বড় ধরনের কোন শিল্প কারখানা নেই। সমতল ভূমির সঙ্গে উৎপাদনমূলক কাজে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া এ সরকার ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। এছাড়া ইতোমধ্যে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটেছে।
 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]