• শুক্রবার   ২৭ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

শ্রীলংকা পরিস্থিতি

বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ মাথাপিছু বেশি নয়

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২২  

‘বাংলাদেশ কি শ্রীলংকার মতো পরিস্থিতি বরণ করবে?’-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গত একমাসের বেশি সময় ধরে একটি চক্র এমন ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে দেশের জনগণকে। 
এই চক্রটির সাথে বিএনপি-জামায়াত এবং দেশি বিদেশি অনেক রাজনৈতিক দলের নেতারাও সুর মিলিয়ে প্রতিদিন তাদের স্বপক্ষে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। যা খুবই হাস্যকর। 
নি:সন্দেহে এই মুহুর্তে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বড় দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে। একাধিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে। তারা সমস্যা মোকাবিলার আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করেছে। 
দেশে বেড়েছে কর্মসংস্থান। বেড়েছে বিনিয়োগ। উন্নয়ন হচ্ছে অবকাঠামোর। বিশ্ব মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, নজিরবিহীন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে টালমাটাল দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। দেশটির ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও বৈদেশিক ঋণের ফাঁদে ধসে পড়েছে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। 
শ্রীলঙ্কার এমন টালমাটাল পরিস্থিতিতে অনেকেই বাংলাদেশকে সতর্ক করছেন। এমন পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আগেই সচেতন তা অতীতেই প্রমানিত হয়েছে। 
নি:সন্দেহে এখন দেশে সরকার দুনীর্তিবাজদের নিয়ে অনেক বেশি সোচ্চার। আইনের আওতা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কেউই। শেখ হাসিনার দৃঢ প্রশাসনিক কৌশলে দুর্নীতিবাজরা গা ঢাকা দিয়েছে। কমে এসেছে লুটপাটের চিত্র। 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে শ্রীলঙ্কার চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে আছে। বাংলাদেশ কখনই শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে পড়বে না। 
তাদের মতে, পর্যটননির্ভর শ্রীলঙ্কান সরকারের রাজস্ব আয়ের খাত পর্যটনে ধস নেমেছে করোনার দুই বছরে। পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ থাকায় কার্যত এই খাত থেকে দেশটির আয় হয়নি। কিন্তু পর্যটক আকৃষ্ট করতে নানা প্রকল্পে আগে নেয়া বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণের কিস্তি ঠিকই পরিশোধ করতে হয়েছে।
শিল্প উৎপাদনে ধস নেমেছে, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সও পৌঁছেছে তলানিতে। পাশাপাশি কর ও ভ্যাট কমানো, কৃষিতে রাসায়নিকের ব্যবহার শূন্যতে নামিয়ে আনার কারণে উৎপাদনের ঘাটতি, সব মিলিয়ে কিছু ভুল পরিকল্পনা আর মহামারিতে এই দশা হয়েছে দেশটির। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি ভিন্ন।
বাংলাদেশে এখন খাদ্য উৎপাদন ঘাটতি নেই। বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্সের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এখন পর্যন্ত কোন নিম্নমুখীতা দেখা যায়নি। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের খাদ্য প্রক্রিয়া আমদানি নির্ভর নয়। 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। আর শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ ২ বিলিয়ন ডলারেরও কম।
অর্থনীতিবিদ মঈনুল ইসলামের কথায়ও বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার চিত্র পাওয়া যায়। তার মতে, বাংলাদেশের বিদেশি ঋণও শ্রীলঙ্কার মতো মাথাপিছু এত বেশি নয়। বাংলাদেশের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ২৯২, যা শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু ১৬৫০ ডলার। দুই দেশের দুই চিত্র। 
 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]