• শুক্রবার   ২৭ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

যেভাবে ইউপিডিএফের কর্মিদের ‘ভুল’ মন্ত্র দিচ্ছে নেতারা

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৭ মে ২০২২  

‘যুদ্ধছাড়া কর্মিদের ভেতর খারাপ বুদ্ধির উদয় হয়। তাই সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা উচিত’-ইউপিডিএফ প্রসিত পন্থীদের মাঝে বছরের পর বছর এভাবেই ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে কর্মিদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত করছে দলটির শীর্ষ নেতারা। তবে এই চিত্র কেবল ইউপিডিএফ এর ভেতরই নয়। পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সবার ভেতরই এই কু মন্ত্রণা আর বিশ্বাসের বীজ বপন করছে দলের সিনিয়র উগ্র নেতারা। এর ফলে অনেক সাধারণ কর্মি সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলেও বাধার কারণে পারছেন না বলে জানিয়েছেন দলগুলোর অনেকে। সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর একাধিক ব্যক্তির কাছে আত্মসমপর্ণ করা ইউপিডিএফ এর কর্মিরা বলেছেন, তাদেরকে ভুল ধারণা দিয়ে এভাবেই পাহাড়ের শান্তিকামি মানুষের উপর হামলা চালাতে বাধ্য করছে দলের নেতারা। এই নিয়ে অনেকে রাজী না হলে তাদের পরিবারের উপর দুর্যোগ নেমে আসবে বলে ভয়-ভীতি দেখানো হয়। সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া অনিল চাকমা নামের এক ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী ধরা পড়ে গত বছরের আগস্টে। তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি জানিয়ে বলেন, এই দলের কোনো আদর্শ নেই। নেই কোনো মানবতা। ওরা শুধু পারে মানুষ হত্যা করতে। তিনি আরও জানান, বিদেশী স্বয়ংক্রিয় একে-২২ রাইফেল, তাজা গুলি, ম্যাগজিন, ওয়াকিটকি, ভুয়া আইডিকার্ড, রাষ্ট্র বিরোধী শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার আর চাঁদাবাজি করে আদায় করা টাকায় চলছে এই দলের কার্যক্রম। ৩ পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় পাহাড়ি বাসিন্দা জানিয়েছেন, পার্বত্য চুক্তি বিরোধী আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা উপজেলাগুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে স্থানীয় পাহাড়ি অধিবাসী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে। তিন পার্বত্য জেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কাছে জিম্মি লাখ লাখ মানুষ। বিভিন্ন খাত থেকে বছরে সন্ত্রাসী গ্রুপের আয় ৫০০ কোটি টাকার বেশি। খাগড়াছড়িতে গত ২০ বছরে এমন সংঘাতে ৭শ’র বেশি খুন হয়েছে। এছাড়া রাঙামাটিতে গত ৫ বছরে মারা গেছে অন্তত ৪৫ জন। খাগড়াছড়ি সদরের বাসিন্দা অনিমেষ চাকমা বলেন, পাহাড়ে এতো লাশ পড়ছে, রক্ত ঝরছে। পার্বত্যাঞ্চলে আমরা পাহাড়ি-বাঙালিরা ভাই ভাই হিসেবে থাকতে চাই। স্কুল শিক্ষক সীমা রায় বলেন, পাহাড়ে কয়েকটি পরিবার শোষণ করে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ড চালায়। আর তাদের সাপোর্ট করে কিছু সুশীল সমাজের মানুষ। তিন পার্বত্য জেলায় শান্তি বিনষ্টকারীদের কঠোর হাতে দমন করতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]