• সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৫ ১৪২৮

  • || ১১ সফর ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

শেখ রেহানার জন্মদিন

মানুষের ভালোবসায় বাঁচতে চান ‘ছোট আপা’

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  

রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। জন্মের পর থেকেই দেখে এসেছেন, বাড়িতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আসা-যাওয়া। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষদের সঙ্গে শুধু আলাপ-পরিচয় নয়, তারও ছিল নিত্য ওঠাবসা।

কখনও আন্দোলন সংগ্রামের দিনলিপি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার অনুপ্রেরণা সাহস জুগিয়েছে বড় বোনকে। 

বিপদ এসেছে বারে বারে। তবু তিনি পিছিয়ে যাননি। শক্ত হাতে ঝড় সামলেছেন। মানুষের ভালোবাসায় ফিরে এসেছেন এদেশে। বলছিলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদরের ছোট মেয়ে শেখ রেহানার কথা। 

আজ সোমবার ১৩ সেপ্টেম্বর তার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনটিতে পরিবারের অন্য সদস্যদের মনে পড়ছে তার। জনহিতৈষী কাজে সব সময়ই ভূমিকা রেখেছেন শেখ রেহানা। বড় বোন শেখ হাসিনার পাশে থেকেছেন সবসময়। 

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন সৃষ্টিকর্তার রহমতে। আর তাই হয়তো আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় শ্রদ্ধার সঙ্গে তার অবদান স্মরণ করছেন এদেশের অগনিত মানুষ। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা ১৯৫৫ সালের এ দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছাসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে। সে সময় জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বামী এম ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল জার্মানির কার্লসরুইয়ে বড় বোনের সঙ্গে থাকায় বেঁচে যান তিনি। 

সেখান থেকে ভারতে চলে যান দুই বোন। শেখ রেহানা পরে পরিবার নিয়ে লন্ডনে চলে যান। শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন।

ধানমণ্ডিতে তার নামে বরাদ্দ বাড়িটিও দিয়েছেন দেশের কাজে। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, সবার কাছে ‘ছোট আপা’ বলে পরিচিত। অধ্যাপক ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক ও শেখ রেহানা দম্পতির তিন ছেলেমেয়ে। তাদের মধ্যে বড় মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লেবার পার্টির একজন এমপি। 

ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত। আর ছোট মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক লন্ডনে কন্ট্রোল রিস্কস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গ্লোবাল রিস্ক অ্যানালাইসিস সম্পাদক।

জাতির জনকের কন্যা হলেও জীবনের এক একটি ধাপ পেরিয়ে আসার পথটি মোটেও সহজ ছিল না তাঁর। বলতে গেলে জীবনের শুরুতেই জীবনযুদ্ধের সৈনিক তিনি। অনেকটা পথ রীতিমতো লড়াই করেই কাটাতে হয়েছে তাকে। কৈশোর-উত্তীর্ণ বয়সে হারিয়েছেন মা-বাবা, ভাইদের। 

হারিয়েছেন স্বদেশের আশ্রয়। আশ্রয়হীন পরিবেশে দেশে দেশে ঘুরেছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত ছিল না কোথাও। ছিল না নিশ্চিত জীবনযাপনের নিশ্চয়তাও। লড়াই করেছেন। উপার্জনের জন্য নিজেকে নিযুক্ত করতে হয়েছে নানা কাজে।

বরাবরের মতো এবারও শেখ রেহানার জন্মদিনে বড় কোনো আয়োজন নেই। শুধু পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় তার জন্মদিন পালিত হবে। দেশের মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে জীবনের চ্যালেঞ্জে লড়াই করছে। জন্মদিনে সেইসব মেহনতি মানুষের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন সবার প্রিয় ছোট আপা শেখ রেহানা।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]