• শনিবার   ২৫ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

দিল্লিতে জেসিসির বৈঠক: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বারোপ

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২২  

ছবি- বাংলাদেশ ও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক।

ছবি- বাংলাদেশ ও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক।

 

ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর ও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন।

গতকাল রোববার নয়াদিল্লিতে দুই দেশের যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠক শেষে প্রচারিত যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। বিবৃতিতে দুই প্রতিবেশীর বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ের সুরাহা এবং টেকসই সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন। এ ছাড়া দুই পক্ষ নিরাপদ, দ্রুত এবং টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় গুরুত্ব দিয়েছে

দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোরাম জেসিসির সপ্তম বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। আর ভারতে নেতৃত্ব দেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাজার অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ। বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ সরকার। যাতে করে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতাও বজায় থাকে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মধ্যে জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করে ঢাকা। আব্দুল মোমেন তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি ও ইউরোপে সংঘাতের কারণে সাপ্লাই চেইনে সমস্যার দ্রুত উত্তরণের জন্য আমাদের একসঙ্গে কাজ করা দরকার।

মন্ত্রী বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১২ বছরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্য অনেক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। স্থল ও সমুদ্রসীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি, নিরাপত্তা, কানেক্টিভিটি, উন্নয়ন সহযোগিতাসহ আমরা অনেকগুলো বিষয়ে ভালো ফলাফল পেয়েছি।

কোভিড সময়ের পরে এই প্রথম দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈঠক হলো। এর আগে ২০২০ এর ডিসেম্বরে ষষ্ঠ জেসিসি বৈঠক ভার্চুয়ালি হয়েছিল। বৈঠকে বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশেষ করে শীর্ষ নেতৃত্বের সফরের সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করেন দুই মন্ত্রী। ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোভিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২১ সালে ঢাকা সফর করেন। 

কোভিড চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দুদেশ আগের যেকোনও সময়ের থেকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করেছে— এজন্য দুই মন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতা, উন্নয়ন সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে দুদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উভয়পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করে। 

বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জয়শঙ্করের বক্তব্য প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণকাজে সহযোগিতার বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এছাড়া ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং সাইবার নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আরও সহযোগিতার বৃদ্ধির বিষয়েও একমত হয়েছেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে জয়শঙ্কর বলেন, ‘দুই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের পাশাপাশি সুন্দরবনসহ পরিবেশ সুরক্ষায় আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় অঙ্গীকার পূরণের স্বার্থে এ বিষয়গুলোতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, সীমান্তের উন্নত ব্যবস্থাপনা ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার। দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই সীমান্ত যাতে অপরাধমুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতে অবশ্যই দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের প্রসঙ্গ টানেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া ও নেপাল) মোটরযান চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। বিদ্যুৎ, বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ খাতে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির জন্য দুই মন্ত্রী সপ্তম জেসিসি বৈঠকে কর্মকর্তাদের আরও মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ দেন। উভয় দেশের মানুষের কল্যাণ হয় এমন সমাধান বের করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দেখা করবেন। আগামী জেসিসি বৈঠক ২০২৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]