• শনিবার   ২৫ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

রাঙামাটির গর্ব বক্সার সুর কৃষ্ণ চাকমা

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২২ মে ২০২২  

ছবি- দৈনিক খাগড়াছড়ি।

ছবি- দৈনিক খাগড়াছড়ি।

দেশের প্রথম পেশাদার বক্সিং ‘সাউথ এশিয়ান প্রফেশনাল বক্সিং ফাইট নাইট—দ্য আল্টিমেট গ্লোরি’ ৬১ কেজি লাইটওয়েট ইভেন্টে জিতেছেন রাঙামাটির জুরাছড়ির সুরকৃষ্ণ চাকমা।

টুর্নামেন্টে মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় রাউন্ডের শুরুতেই অ্যাটাক করতে গিয়ে রিংয়ে পড়ে যান নেপালি বক্সার মহেন্দ্র বাহাদুর চাঁদ, ফলে নকডাউনের পয়েন্ট পান সুরকৃষ্ণ চাকমা। চার রাউন্ড শেষে তিন বিচারকের কাছ থেকে ৪০-৩৬,৪০-৩৬, ৩৭-৩৯ পয়েন্ট পেয়ে লড়াই জিতে নেন জুরাছড়ির এই বক্সার।

তার এই জয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিতেন্দ্র কুমার নাথ।

Photo: Sura Krishna Chakma

দেশের প্রথম পেশাদার বক্সার সুরকৃষ্ণ চাকমা। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বক্সার আলী জ্যাকোর হাত ধরে পেশাদার জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর ২০১৮ সালে। ভারতে গিয়ে দুটি লড়াই জিতেছিলেন। সেই শুরু, আর সেখানেই ইতি হতে চলেছিল তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের। আলী জ্যাকোর সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছিলেন, হারিয়েছিলেন পেশাদার জগতের পথটাও।

অবশেষে বাংলাদেশ বক্সিং ফাউন্ডেশনের (বিবিএফ) উদ্যোগে সেই সুর রিংয়ে নেমেছেন দেশের মধ্যেই।

বাংলাদেশ, নেপাল ছাড়াও ভারতের এক বক্সার অংশ নেন এ আসরে। এই ইভেন্টে মোট তিনটি আন্তর্জাতিক লড়াই হয়। এ ছাড়া আরও চারটি লড়াইয়ে স্থানীয় আটজন বক্সার লড়েন।

Photo: Sura Krishna Chakma

এই বক্সিং থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনায় প্রথম সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ ১৯৮৬ সালে, সিউলে দশম এশিয়ান গেমসে। সেই আসরে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন বাংলাদেশের মোশাররফ হোসেন। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশের সেটাই ছিল প্রথম পদক।

তবে মিরপুরস্থ শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টের মধ্যদিয়েই বাংলাদেশ অনুষ্ঠিকভাবে প্রবেশ করল পেশাদার বক্সিং যুগে। ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাউন্সিলের অনুমোদনে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় সহযোগিতা করেছে এক্সেল স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড প্রোমোশনস।

এ আসরে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের ১৪ জন বক্সার ওয়েট ক্লাসে মোট সাতটি ফাইটে অংশ নেন। তারকা বক্সার মোহাম্মদ আল আমিন ও সুরো কৃষ্ণ চাকমাসহ বাংলাদেশের মোট ১১ জন বক্সার খেলেছেন এ টুর্নামেন্টে।

Photo: Sura Krishna Chakma

প্রতিযোগিতার প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ ও নেপালের দুই পেশাদার বক্সার মোহাম্মদ আল আমিন এবং ভারত চাঁদের ফাইট। ৬৬ কেজি ওয়েল্টারওয়েট ক্যাটাগরির এ দুই বক্সার চার রাউন্ড লড়াই করেন। যেখানে জয় পান গত বাংলাদেশ গেমসে সোনা জেতা বক্সার আল আমিন।

দেশের বক্সারদের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম দিতে এবং বক্সিং খেলাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দিতেই বিবিএফের এই আয়োজন বলে জানান সংগঠনের সভাপতি আদনান হারুন।

বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতার সফল সমাপ্তির পর শনিবার তিনি বলেন, ‘দেশে এমন ত্রিদেশীয় পেশাদার বক্সিং টুর্নামেন্টের আয়োজন এর আগে কেউ করেননি। আমাদের বক্সিংয়ের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। আমি বিশ্বাস করি আমাদের আয়োজন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আমাদের এমন আয়োজনের ধারা অব্যাহত থাকবে।’

আদনান হারুন যোগ করেন, ‘আমরা একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছি। পেশাদার বক্সিংকে ঘিরে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা আছে আমাদের। আমি চাই বাংলাদেশের অ্যামেচার বক্সাররা এগিয়ে আসুক পেশাদার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। যদি তারা পেশাদার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তাহলে আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদাও বাড়বে।

পেশাদার বক্সার হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার পর গ্লোবাল র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের জায়গা হবে। আমাদের দেশে বেশ ভালোমানের অ্যামেচার বক্সার রয়েছেন। তারা যদি নিজেদের পেশাদারিত্বে নিয়ে আসেন তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি ভালো করতে পারবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বক্সারদের সঙ্গে ফাইট করে দেশের মান বাড়াতে পারবেন বলে মনে করি।’

বিবিএফের সভাপতি আরও বলেন, ‘আমি নিজেই একজন বক্সার। বক্সিংকে ভালবাসি বলেই সংগঠকের ভূমিকায় থেকে এই খেলার উন্নয়নে কাজ করতে নেমেছি। সবার সহযোগিতা পেলে দেশে পেশাদার বক্সিং খেলাকে অনেক বেশি জনপ্রিয় করে তুলতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।’

এর আগে, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কৃতি সন্তান সুর কৃষ্ণ চাকমা বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস ২০২০-এও বক্সিং-এ চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট জয় করে গোল্ড মেডেল পেয়েছিলেন। পেশাদার বক্সার হিসাবে জাতীয় পর্যায়ে রয়েছে তাঁর রয়েছে অপ্রতিরোধ্য সুনাম।

তিনি ২০১৩ সালে তাঁর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক খ্যাত ‘বাংলাদেশ গেমস’ এ অংশগ্রহন করেন। এই আয়োজনে একে একে এসএ গেমস এ সোনা জেতা মো: আব্দুর রহিম, তৎকালীন বক্সিং চ্যাম্পিয়ন মো. আরিফ হোসেনকে হারিয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে সোনা জিতে নেন।

তিনি জানান, ২০১৪ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কমনওয়েল্ট গেমসে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে স্কটল্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ ঘটে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে ১৯-২০ ব্যবধানে হেরে গেলেও কর্তৃপক্ষের সুনজরের কারণে রিও অলিম্পিকে অংশগ্রহনের জন্য বৃত্তি লাভ করেন সুরকৃষ্ণ চাকমা।

২০১৫ সালে কিক বক্সিংয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত লন্ডন প্রবাসী আলী জ্যাকোর একান্ত সহযোগীতায় লন্ডনের পিকক জিমে বিশ্বমানের কোচের সান্নিধ্যে ট্রেনিং এর সুযোগ পান যা তার প্রতিভাকে এক নতুন মাত্রায় নিতে সক্ষম হন। ২০১৮ সালে ইন্ডিয়ার হরিয়ানা রাজ্যে আবারো ৫ মাস ট্রেনিং এর সুযোগ পেয়ে হরিয়ানা রাজ্যের স্টেট চ্যাম্পিয়নকে প্রথম ম্যাচেই হারানো এই প্রতিভাবান বক্সার ২০১৯-এ নেপালে অনুষ্ঠিত সাউট এশিয়ান গেমস এ বক্সিং এ ৬০ কেজি ওজনের ক্যাটাগরিতে অর্জন করেন বাংলাদেশের পক্ষে ব্রোঞ্জ পদক।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]