• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ১ ১৪২৯

  • || ১৭ মুহররম ১৪৪৪

দৈনিক খাগড়াছড়ি

কমছে তামাকের আধিপত্য, বাড়ছে বিদেশী ফলের আবাদ

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২২  

ছবি- মানিকছড়ির একসময়কার তামাকের অভয়ারন্যে এখন চাষ হচ্ছে নানা দেশী-বিদেশী ফল।

ছবি- মানিকছড়ির একসময়কার তামাকের অভয়ারন্যে এখন চাষ হচ্ছে নানা দেশী-বিদেশী ফল।

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদী। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীর বিশাল চরজুড়ে চাষিরা একসময় তামাক চাষ করতেন। এতে বিষাক্ত হতো হালদার মিঠাপানি। বর্তমানে এই হালদার উজান খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কমে এসেছে তামাক চাষ। কৃষকেরা তামাক ছেড়ে শাকসবজি ও মৌসুমি ফল চাষ করছেন। ফলে তামাক চাষ কমে আসায় সতেজতা ফিরেছে হালদাপাড়ে।

একসময়কার তামাকচাষিরা পুরোদমে এখন শাকসবজি ও মৌসুমি ফল চাষে সফলতা বয়ে আনছেন। তামাকচাষিদের বিকল্প জীবিকা সৃষ্টির ফলে উপজেলার গোরখানা, আছাদতলী, ছদুরখীল এলাকার চাষিরা ঝুঁকছেন বিভিন্ন সবজি চাষাবাদে।

এরই অংশ হিসেবে উপজেলার গোরখানা এলাকার ২০-২৫ জন চাষি তামাক ছেড়ে আইডিএফ ও পিকেএসএফের সহযোগিতায় মালচিং পদ্ধতিতে উচ্চমূল্যের ফসল গ্রীষ্মকালীন তরমুজ ও অন্যান্য ফসল চাষাবাদে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে সফল তরমুজচাষি মো. রমিজ উদ্দীন, মো. চান মিয়া, আলী মিয়া, ফারুক হোসেন ও খোরশেদ আলমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই প্রান্তিক কৃষকেরা আগে তামাক চাষে নিঃস্ব হয়ে পরিবার নিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছিলেন। বিকল্প চাষে সরকারের সহযোগিতার খবরটি তাঁরা প্রথমে গুরুত্ব দেননি। একপর্যায়ে তামাকের বিকল্প নানা প্রজাতির সবজি, বাগ-বাগানে অন্যদের সফলতা বুঝতে পেরে তাঁরাও এ বছর মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে জনপ্রতি ১০ শতক জমি তৈরি ও এর ওপর প্রশিক্ষণ নেন আইডিএফের হালদা প্রকল্পে।

মানিকছড়ির একসময়কার তামাকের অভয়ারন্যে এখন চাষ হচ্ছে নানা দেশী-বিদেশী ফল

গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষের ফলে এখন ওইসব কৃষক সফলতার আশায় বুক বেঁধেছেন। মো. ফারুক হোসেনের মা পারুল আক্তার জানান, আগে তামাক চাষ করে শারীরিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন তিনি। এবার তামাকের বিকল্প তরমুজ চাষে ভাগ্যবদলের স্বপ্ন দেখছেন। এখন গাছের ডগায় তরমুজ পরিপক্ব হয়ে উঠছে। তবে এলাকার সড়ক যোগাযোগ খুব খারাপ হওয়ায় খেতের ফল বাজারজাত নিয়ে শঙ্কিত অনেকে।

মো. রমিজ উদ্দীন বলেন, ‘একসময় আমি তামাক চাষে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতাম। পরে তামাকের ক্ষতিকর দিক বুঝতে পেরে এখন সরকারের গৃহীত বিকল্প চাষাবাদে সবাইকে ডেকে আনছি। যাঁরা সাড়া দিয়েছেন, তাঁরা কম-বেশি স্বস্তিতে।’

আগামী সপ্তাহ থেকে খেতের তরমুজ কাটা শুরু হবে। একসময় তামাক চাষ নিয়ে সংবাদ প্রকাশে সংবাদকর্মীরা তথ্য বা ছবি সংগ্রহ করতে গেলে চাষিরা খারাপ আচরণ করতেন। অনেক পরে হলেও তাঁরা তামাক চাষ ছেড়ে হালদাকে এবং পরিবার-পরিজনকে স্বস্তি দিয়েছেন।

হালদা রক্ষা কমিটির পরামর্শ ও মালচিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ ও বিভিন্ন জাতের দেশি-বিদেশি সবজির আবাদসহ তামাকে বিকল্প চাষাবাদে ঝুঁকছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। এতে যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমছে, তেমনি পরিবেশেরও ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত শাকসবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অর্থনৈতিকভাবে।

হালদা প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও আইডিএফএর মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ২০১৮ সাল থেকে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) একটি প্রকল্পের অর্থায়নে ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) হালদার দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও মিঠাপানির প্রবাহ নিশ্চিতকরণে এ নদীর উজানে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার তামাকচাষিদের বিকল্প জীবিকায়ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কয়েক বছর ধরে উপজেলার বাটনাতলী, গোরখানা, যোগ্যাছোলা, আছাদতলী এলাকায় তামাকচাষিদের বিকল্প জীবিকায়ন সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষকের মধ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান, সবজিবীজ, মাছের পোনা, মুরগির বাচ্চা, উন্নত জাতের পেঁপে, আম, কাঁঠালসহ বিদেশি ফল রামবুটান ও ড্রাগন চারা বিতরণে এখন ওই এলাকার প্রান্তিক কৃষকেরা তামাকের বিকল্প চাষে সাড়া দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উৎপাদিত তরমুজ বাজারজাতকরণে চাষিদের সহযোগিতা করা হবে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাইকার ৭০০-৮০০ কেজি তরমুজ কেনার অর্ডার করেছে। এ ছাড়া ওই জনপদের রাস্তাঘাট উন্নয়নে সরকারের নানা পরিকল্পনার পাশাপাশি পিকেএসএফ প্রকল্পেও রাস্তা উন্নয়ন করা যায় কী না, সেটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]