• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৩ রজব ১৪৪৪

দৈনিক খাগড়াছড়ি

রামগড়ে ওলামা ঐক্য পরিষদের কথিত নেতার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৯ নভেম্বর ২০২২  

ছবি- দৈনিক খাগড়াছড়ি।

ছবি- দৈনিক খাগড়াছড়ি।

খাগড়াছড়ি ক্বওমী মাদ্রাসা ও ওলামা ঐক্য পরিষদের রামগড় উপজেলা কমিটির কথিত সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ পাঠাগার প্রকল্পের কেয়ারটেকার মাওলানা মোঃ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ সম্পর্ক এবং অনৈতিক মেলামেশাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

গত ৬ নভেম্বর রবিবার মধ্যরাত আনুমানিক পোনে একটার দিকে রামগড় পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বাগানের কোনায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে অভিযুক্ত সাইফুলকে প্রবাসীর স্ত্রীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজন। 

জানা যায়, অভিযুক্ত সাইফুল পশ্চিম বাগানটিলা এলাকার উক্ত প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ সম্পর্ক চলমান রাখেন। যার প্রেক্ষিতে তিনি রামগড়ে তার প্রতিষ্ঠিত মারকাজ ওমর মাদ্রাসায়ও অসংখ্যবার উক্ত নারীকে নিয়ে অবৈধভাবে রাত কাটান। এসব কাজে তাকে সবসময় তার অনুগত চৌধুরপাড়া মসজিদের মুয়াজ্জিনসহ বেশ কয়েকজন সহায়তা করেন। সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠা করা মাদ্রাসাটি শিক্ষার্থীর অভাবে বন্ধ হয়ে গেলে তিনি গত ৬ নভেম্বর রবিবার রাত পোনে একটার দিকে বাগানের কোণায় তার পরকীয়া প্রেমিকার ভাসা বাসায় যান। এসময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরবর্তীতে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে তিনি সেখান থেকে মুক্ত হন। 

গত ৬ তারিখে অভিযুক্ত সাইফুল, তার সহযোগীসহ উক্ত নারীকে আটক করা যুবসমাজের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সেদিন রাতেই উপজেলার এক জনপ্রতিনিধি ও ২-১জন প্রভাবশালী মসজিদের ইমামের হস্তক্ষেপে স্থানীয়রা তাদের সেখান থেকে ছেড়ে দেন। এছাড়া যুবসমাজের কয়েকজনকে এ ঘটনা প্রকাশ না করতে মোটা অংকের টাকাও দেয়া হয় সেদিন। 

অপরদিকে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার বলয়ে থেকে রামগড়ের আলেম সমাজকে নানা ভাবে জিম্মি করে একপ্রকার আলেমদের তার অনুগত করে রাখেন। বিগত সময়ে বহু মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনগণ তার অনুগত না হওয়ায় তিনি নেতার ক্ষমতায় তাদের কর্মস্থল থেকে বাদ দিয়ে অনুগতদের সেখানে নিয়োগ দেন। কেউ তার বিপক্ষে গেলে তাদের হুমকি বা মারধরের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন তিনি।

এছাড়া, স্থানীয় যুবসমাজ ও বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মপ্রিয় এলাকাবাসী কর্তৃক খাগড়াছড়ি ক্বওমী মাদ্রাসা ও ওলামা ঐক্য পরিষদের সভাপতির কাছে প্রেরিত এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, অভিযুক্ত সাইফুল রামগড়ের দুজন সিনিয়র ইমাম ও প্রভাবশালী উক্ত নেতাকে পুঁজি করে সংগঠনের কখনো সদস্য না হয়েও গত জুলাই মাসে অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি ক্বওমী মাদ্রাসা ও ওলামা ঐক্য পরিষদের রামগড় উপজেলা কমিটির কথিত সাধারণ সম্পাদকও বনে যান।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর হাতে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ পাঠাগার প্রকল্পের কেয়ারটেকার হবার পর বিভিন্ন সময়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠানটি  সভাপতি দাবি করে তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়াদের কাছ থেকেও মোটা অংকের ঘুষ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে অভিযুক্ত মাওলানা মোঃ সাইফুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই রাতে তিনিসহ তার সহযোগীরা উক্ত প্রবাসীর স্ত্রীর ভাড়া বাসা দোয়া-কালাম পড়ে বাড়ি বন্ধ করার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। তখনই স্থানীয় কিছু লোকজন তাদেরকে অন্যায়ভাবে সেখান থেকে আটক করে তার সহযোগীদের লাঞ্চিত করে। তবে কেন তিনি বাড়ি বন্ধ করতে রাত পোনে একটায় সেখানে গেলেন এ বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট কোন জবাব দেন নি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আলেমদের হয়রানিসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

এসব বিষয়ে খাগড়াছড়ি ক্বওমী মাদ্রাসা ও ওলামা ঐক্য পরিষদের জেলা কমিটির সাধারণ মুফতি রবিউল ইসলাম শামীমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাওলানা মোঃ সাইফুল তাদের রামগড় উপজেলা কমিটির অনুমোদিত কমিটির কেউ না। তাদের উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুল মালেক। গত জুলাইয়ে রামগড়ে অন্য একটি প্রোগ্রামে হঠাৎ করে রামগড়ের এক রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিসহ কেন্দ্রীয় মসজিদ ও কোর্ট মসজিদের ইমামের সহায়তা নিয়ে নতুন করে কমিটি গঠনের নিমিত্তে মাওলানা সাইফুলকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটির কাছে নতুন উপজেলা কমিটি গঠনের প্রস্তাবনা দেয়া হলেও আজ অবধি তা অনুমোদন করা হয়নি। 

তিনি বলেন, মাওলানা সাইফুলের বিরুদ্ধে গত ৭ জুলাই অভিযোগ পাওয়ার পর খাগড়াছড়ি ক্বওমী মাদ্রাসা ও ওলামা ঐক্য পরিষদের জেলা কমিটির পক্ষ হতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হয়েছে। এছাড়া বুধবার বিকেলে সংগঠনটির রামগড় কমিটির নেতারা মাওলানা সাইফুলের সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে জেলা কমিটির কাছে একটি অভিযোগও পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে ২-১দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছেও লিখিতভাবে তদন্তের বিষয়টি পাঠানো হবে। 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]