• মঙ্গলবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১২ ১৪২৯

  • || ২৯ সফর ১৪৪৪

দৈনিক খাগড়াছড়ি

পাহাড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে জমিসহ ঘর পাচ্ছে ৯৯৮ পরিবার

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২২  

আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত ঘরের ছবি।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত ঘরের ছবি।

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় পর্যায়ের ২য় ধাপে পার্বত্য জেলা  খাগড়াছড়ি রাঙামাটি ও বান্দরবানে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৯৯৮ পরিবার পাচ্ছে জমিসহ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সেমি-পাকা বসতঘর। মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষ ও গৃহহীন থাকবেনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ গৃহ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল (২১ জুলাই) বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ৩য় পর্যায়ের (২য় ধাপে) সারাদেশে ২৬ হাজার ২’শ ২৯ ভূমিহীন ও গৃহীন পরিবারের মাঝে এসব পরিবারের মাঝে জমিসহ গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন। এ পর্যায়ে প্রতিটি গৃহ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। 

সুত্র জানায়, এবার খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮৯২পরিবারের মাঝে জমিসহ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সেমি-পাকা গৃহ প্রদান করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বিকাল ৫টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিং করেন জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।

২য় পর্যায়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় ৮৫ পরিবার, মহালছড়ি উপজেলায় ৩৬ পরিবার, দীঘিনালা উপজেলায় ১২০ পরিবার, পানছড়ি উপজেলায় ৭২ পরিবার, রামগড় উপজেলায় ৭৮পরিবার, গুইমারা উপজেলায় ৬৫টি পরিবার, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ২০০ পরিবার, মানিকছড়ি উপজেলায় ৬২পরিবার, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ১৭৪ পরিবার জমিসহ নতুন গৃহ পাবে। এ ৯ উপজেলা সর্বমোট ৮৯২পরিবারের মাঝে এ নতুন গৃহ হস্তান্তর করা হবে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী,খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৯উপজলায় ইতিপূর্বে ৩হাজার ৫’শ ৮৯ গৃহহীনদের মাঝে গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। চলতি ২০২১-২০২২অর্থ বছরের ৩য় পর্যায়ে ১হাজার ৫’শ ৬ পরিবারের জন্য গৃহ নির্মানের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে ১ম পর্যায়ে ৪’শ ৯৮টি ও ২য় পর্যায়ে ৮’শ বিরানব্বই (৯২)পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থিতি বা অবশিষ্ট ১’শ ১৬টি গৃহ নির্মাণের কাজ অতিদ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

এছাড়া, রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় এই ধাপে জমিসহ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সেমি-পাকা গৃহ পাচ্ছে ৩২টি পরিবার। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বিকাল ৪টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিং করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম সাইফুল ইসলাম, পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য অংসুইছাইন চৌধুরী, রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাব সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল প্রমূখ।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সারা দেশে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনের দিন ৩য় পর্যায়ে (২য় ধাপ) রাঙ্গামাটি জেলায় মোট ৩২টি ঘর আনুষ্ঠানিক ভাবে উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে। এর মধ্যে কাপ্তাই উপজেলায় ২৬টি, বরকল উপজেলায় ৫টি, নানিয়ারচর উপজেলায় ১টিসহ মোট ৩২টি গৃহ উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে।

অন্যদিকে, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৭৪ পরিবারের মাঝে জমিসহ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সেমি-পাকা গৃহ প্রদান করা হবে। এ উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন এর আয়োজনে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) সকালে প্রেস ব্রিফিং করেছেন জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি। 

এসময় তিনি আরো বলেন,বান্দরবানে হালনাগাদকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ৩১২৫টি, তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ১ম পর্যায়ে ২১৩৪টি, ২য় পর্যায়ে ৫৬৪টি এবং ৩য় পর্যায়ে (১ম ধাপ) ২০৫টি গৃহ হস্তান্তর করা হয়। জেলা প্রশাসক আরো জানান, প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বান্দরবানে যে ঘরগুলো দেয়া হচ্ছে সেগুলো যাতে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনরা পায়, সেজন্য জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সঠিকভাবে তদারকি করছে। এসময় তিনি আরো বলেন, ঘর নির্মাণে কোন অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এসময় জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাইফুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম শাহনেওয়াজ মেহেদী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব কুমার বিশ্বাস, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনু, সাধারণ সম্পাদক মিনারুল হকসহ বান্দরবানে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]