• শনিবার   ২৫ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ জ্বিলকদ ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

পাহাড়ে সরকারি খাস ভূমি দখলের নিত্য নতুন কৌশলে উপজাতি সন্ত্রাসীরা

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২২  

ছবি- দৈনিক খাগড়াছড়ি।

ছবি- দৈনিক খাগড়াছড়ি।

গত ২৪ মে (মঙ্গলবার) দীঘিনালা উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ের চেয়ারম্যান ও মৌজা হেডম্যান খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারক লিপি দেয়; যেখানে অভিযোগ করা হয় বিতর্কিত সোনামিয়া টিলায় বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে সেনাবাহিনী তাদের বাঁধা প্রদান করছে।

প্রথমেই বলে রাখি, দীঘিনালার ইউপি চেয়ারম্যানদের অধিকাংশই শান্তিচুক্তি বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফ সমর্থিত এবং ইউপিডিএফের এজেন্ডা বাস্তবায়নই তাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। গতকাল তারা সাধারণ পাহাড়িদের নামে যে স্মারক লিপি প্রদান করেছিল তার প্রণেতা ইউপিডিএফের সর্বোচ্চ কমান্ড।

এবার আসি বিতর্কিত সোনামিয়া টিলা প্রসঙ্গে। সোনামিয়া টিলা মূলত একটি খাসভূমি (পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে অসংখ্য খাসভূমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে উপজাতিরা)। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার গঠিত শান্তিবাহিনী পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে যখন নৃশংসতা শুরু করে তখন বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে বসবাস করা বাঙালিদের একত্রিত হয়ে বসবাস করতে দেখা যায়। জনমানবহীন এই ভূমিগুলো প্রকৃত অর্থে সরকারি খাসভূমি। পাশাপাশি বেশকিছু গ্রাম নিয়ে গঠিত হয় গুচ্ছগ্রাম। আর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এসব গুচ্ছগ্রামে সেনাবাহিনী নিরাপত্তা ক্যাম্প গঠন করেছিল। তেমনি একটি গুচ্ছগ্রাম দীঘিনালার সোনামিয়া টিলা।

এই এলাকায় সমস্যার উদ্ভব হয় বছর দুয়েক আগে। খাসভূমি দখলে সন্ত্রাসীদের নতুন অপকৌশলের অংশ হিসেবে তারা সাধারণ উপজাতি ও বাঙালিদের মধ্যে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা চালায়। সঠিক সময়ে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের পদক্ষেপে একটি বিরাট ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় সোনামিয়া টিলার সাধারণ উপজাতি ও বাঙালিরা। এই ভূমির মালিকানার কোন কাগজ নেই উপজাতিদের কাছে। তাদের বসবাসও ছিল না এই এলাকায়। শুরু থেকেই এখানে বসবাস করে আসছিল বাঙালিরা। তারপরেও ইউপিডিএফের ক্রমাগত চাপে বাধ্য হয়ে তারা ভূমির মালিকানা দাবি করছে। ২০১৬-২০১৭ সাল পর্যন্ত সোনামিয়া টিলার ৮১২টি বাঙালি পরিবারের সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত খাসভূমি দখল করে নেয় পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসিত) এর মদদপুষ্ট উপজাতিরা।

সোনামিয়া টিলা ইতিমধ্যে একটি স্পর্শকাতর জায়গায় পরিণত হয়ে গেছে। সংঘাত এড়াতে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রশাসন নতুন কোন স্থাপনা নির্মাণ কিংবা সংস্কারের পূর্বে প্রশাসনকে অবগত করতে অনুরোধ জানায়। নিঃসন্দেহে প্রশাসনের এই অনুরোধ/নির্দেশনা অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারিতে এই এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বিরাজ করছে। বেদখল হওয়া ভূমি সমস্যার সমাধান নিয়েও আলোচনা অব্যবহত আছে। সবকিছু যখন স্বাভাবিক তখন শান্ত পাহাড়কে আবারো অশান্ত করতে মরিয়া শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ। তাদের অব্যবহত চাপ ও উস্কানিতে প্রশাসনকে না জানিয়ে নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্ঠা করছে উপজাতিরা।

তাদের ভূমি দখলের সবচেয়ে বড় কৌশল কুঁড়েঘর ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ। এসব স্থাপনা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। স্পর্শকাতর এই কারণেই যে, এগুলো নির্মিত হচ্ছে জোরপূর্বক দখলকৃত ভূমিতে। এসব ভূমির প্রকৃত মালিক কিংবা যারা দীর্ঘসময় ধরে বসবাস করে আসছে তারা যদি হামলা চালায় তাহলে অনেক বড় রকমের সংঘাতের সৃষ্টি হবে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে। যার পুরো ফায়দা নিতে চায় ইউপিডিএফসহ সমমনা সশস্ত্র উপজাতিরা।

আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর বহু সদস্যকে এই পাহড়ে জীবন দিতে হয়েছে। চাঁদাবাজ ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে তাই সেনাবাহিনী বড় শত্রু। তাই সেনাবাহিনীকে ঘিরে প্রতিনিয়ত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। গত ২৪ মে’র স্মারক লিপি প্রদান যে তারই অংশবিশেষ এতে কোন সন্দেহ নেই।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]