• বৃহস্পতিবার   ২৮ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১৩ ১৪২৮

  • || ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

রামগড় পৌরনির্বাচনে হ্যাট্রিক জয় পেতে নৌকায় চড়তে চায় রিপন

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ছবি- নিজস্ব প্রতিবেদক।

ছবি- নিজস্ব প্রতিবেদক।

 

আগামী ২রা নভেম্বর দেশের ১০টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।  গত ২৯ সেপ্টেম্বর বুধবার নির্বাচন কমিশনের ৮৬তম সভা শেষে ১০টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন ইসি সচিব হুমায়ূন কবীর খন্দকার।

তফসিল অনুযায়ী আগামী ২ নভেম্বর ইভিএমের মাধ্যমে ছাগলনাইয়া ও রামগড় পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলে শেষ তারিখ আগামী ৯ অক্টোবর। মনোনয়রপত্র বাছাই ১১ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ অক্টোবর।

ঘোষিত পৌরসভাগুলোর মধ্যে খাগড়াছড়ির সাবেক মহকুমা শহর রামগড় পৌরসভা রয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর  নির্বাচনী আমেজ বইতে শুরু করেছে। 

ইতিমধ্যেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের টিকেট পেতে মরিয়া নির্বাচনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীরা। এদের মধ্যে রয়েছেন টানা ২বার নির্বাচিত বর্তমান পৌর মেয়র ও সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ শাহজাহান (রিপন), পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল আলম কামাল এবং পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরর নাম। এছাড়া, বিরোধী দল বিএনপি থেকে এখনো কেউ প্রকাশ্যে প্রচারণায় না আসলেও সাবেক কাউন্সিলর জসিম উদ্দিনের নির্বাচনে প্রার্থী হবার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা আওয়ামীলীগ থেকে নতুন করে কেউ মনোনয়ন চাইলেও তাতে অবাক হবার কিছু নেই। 

জানা যায়, বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান কাজী রিপন টানা দ্বিতীয় মেয়াদে জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি প্রথমবার ২০১১ সালে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৬ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীক নিয়ে। তার বাবা কাজী রহুল আমীন ছিলেন ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রামগড় সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক। মেয়র রিপন ১৯৯৮ সালে রামগড় ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য, ২০০৩ সালে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৮ সাল থেকে দুই মেয়াদে উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে কাজী রিপন মেয়র নির্বাচিত হলেও ২০১৬ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীক নিয়ে পৌর মেয়র হিসেবে বিজয়ী হতে তাকে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে। সেসময় তার বিপক্ষে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন, বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কারবারী। 

এছাড়া, বর্তমানে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল আলম কামাল ইতিপূর্বে জনপ্রতিনিধির কোন দায়িত্ব পালন না করলেও রাজনীতিতে ভালোই অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তিনি প্রবীন রাজনীতিবিদ মরহুম আবদুল গফুর সর্দারের সন্তান। রফিকুল আলম কামাল ১৯৯৬ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েই পুরোদমে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন । তিনি ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা দীর্ঘ বছর পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। 

অন্যদিকে, আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের রামগড় উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতিও। এর আগে তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ১নং রামগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন বেশ সুনামের সঙ্গে। 
বর্তমান পৌর মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আমি পরপর দুবার রামগড় পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছি। প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর পৌর এলাকায় সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের গতি দেখে দ্বিতীয়বার নির্বাচনে জয়ী হতে বেগ পেতে হয়নি। পৌরবাসী সুযোগ দিলে আগামীতে এই পৌরসভায় একটি শিশু পার্ক, নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান স্থাপন, পৌরসভা অভ্যন্তরে অডিটরিয়াম স্থাপন ও ঈদগাহ ময়দান প্রশস্তকরণের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এসব কাজ শুধু পৌরসভার রাজস্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এখানে দরিদ্র ও মধ্যবৃত্ত শ্রেণির মানুষের বসবাস বেশি, সে তুলনায় গড়ে উঠেনি মেইল, কারখানাসহ উন্নয়নমুখী কর্মযজ্ঞ। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীসেতু-১ কেন্দ্রিক স্থলবন্দর ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনে এখানকার মানুষকে সম্পৃক্ত করা গেলে পৌরবাসীর জীবনধারাসহ অর্থনৈতিক ব্যাপক পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। অবশ্য এজন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও পৌর নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন- বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সর্বাধিক সহযোগিতা লাগবে।

মেয়র বলেন, আমি বাস্তবে বিশ্বাসী। অবস্থা ও সার্বিক বিবেচনায় যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। যে কারণে কতিপয় লোকের ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় তারা বিভিন্ন সময় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করে আসছে। আমি শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও মানুষের ভালোবাসা নিয়ে করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সহযোগিতায় জনগণের মাঝে যাবতীয় পদক্ষেপ এবং সরকারি সামাজিক বেষ্টনীর আওতায় গৃহীত কর্মসূচি সফলতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। পৌর এলাকায় এমন কোনো ওয়ার্ড নেই, যেখানে ড্রেন ও আরসিসি ওয়াল ও রাস্তার কাজ করা হয়নি। প্রতিটি ওয়ার্ডে সমহারে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ সমস্যা সমাধান করতে পেরেছি। অল্প কিছু কাজ আমার এখনো বাকি আছে। এছাড়া জনকল্যাণমূলক কাজ যেমন- মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম-উন্নয়নে সবসময় নিয়োজিত আছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম চালু রয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে পৌরসভা এলাকার সব বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও বয়স্কদের শতভাগ সরকারি ভাতা প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছি।

এছাড়া, বঙ্গন্ধুর সোনার বাংলা ও শেখ হাসিনার ডিজিলাল বাংলাদেশে রামগড় পৌরবাসীকে সম্পৃক্ত করার অঙ্গিকার নিয়ে রফিকুল আলম কামাল বলেন, রামগড় পৌরসভাকে জনবান্ধব ডিজিটাল পৌরসভায় রুপান্তর করে শতভাগ জনসেবা প্রধানই হবে তার অন্যতম লক্ষ্য। রামগড় স্থলবন্দরকে পৌরবাসীর জন্যে অর্থনৈতিক জোনে উন্নতি করে প্রাচীন মহকুমা শহর রামগড়কে জেলায় রুপান্তর করার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতির কথাও তিনি জানান।

অন্যদিকে, ডিজিটাল রামগড় বিনির্মান, শহরের উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলের অঙ্গিকার ব্যক্ত করে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, তিনি মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে জনবান্ধব ডিজিটাল পৌরসভা গঠনে সর্বাত্নক ভূমিকা রাখবেন। 

পরিসংখ্যান বলছে, এবার জয় পেলে বর্তমান পৌর মেয়রের এটি হবে তৃতীয় জয়, তাই এটি তার জন্য হ্যাট্রিক চান্স। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার কারণে তিনি নৌকার টিকিট পেতে মরিয়া। এখন দেখায় বিষয়, আওয়ামী লীগ টানা দুই মেয়াদের এই পৌর মেয়রকেই মনোনয়ন দেয় নাকি নতুন কাউকে চালকের আসনে বসায়।

উল্লেখ্য, রামগড় পৌরসভা ২০০১ সালের ৪ জানুয়ারি ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যাত্রা শুরু করে ২০০৫ সালের ১১ অক্টোবর ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। এ পৌরসভায় এখনো শতভাগ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। রয়েছে যানজট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কবাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা সংকট। ২০.৮৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। মোট ভোটার ২২ হাজার ৪৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৫৬৩ ও মহিলা ১০ হাজার ৪৮৪ জন। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটার ছিলো ১৮ হাজার ২শত ৭৩ জন, যা ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭ শত ৭৪ জনে । এ পৌরসভায় লোকসংখ্যার আনুপাতিক হারে প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। 

পৌরসভার আওতায় রয়েছে হাটবাজার ৪টি, কলেজ ১টি, উচ্চ বিদ্যালয় ৫টি, মাদ্রাসা ৮টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৩টি, সরকারি হাসপাতাল ১টি, মসজিদ ২৮টি, মন্দির ২০টি, গির্জা ১টি। পৌরসভার মোট রাস্তা ১৬৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাকা রাস্তা ৯৫ কিলোমিটার, আধাপাকা ৫৫ কিলোমিটার এবং কাঁচা রাস্তা ১৫ কিলোমিটার।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]