• সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৫ ১৪২৮

  • || ১১ সফর ১৪৪৩

দৈনিক খাগড়াছড়ি

পানছড়িতে জুমচাষের ও বনজঙ্গলের সবজির চাহিদা বেশি 

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২১  

ছবি- নিজস্ব প্রতিবেদক।

ছবি- নিজস্ব প্রতিবেদক।

 

খাগড়াছড়ির পানছড়ি বাজারে সারা বছরই বন-জঙ্গল থেকে আনা বিভিন্ন ধরনের ফল ও শাকসবজি পাওয়া যায়। মূলত দরিদ্র নারীরা সংসারের জোগান দিতে বুনো শাকসবজি সংগ্রহ করে বিক্রয়ের জন্য বাজার নিতে আসেন। আর এসব টাটকা সবজি কিনতে ক্রেতারা প্রতিদিন তাঁদের সময়মতো বাজারে যান। 

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পানছড়ির সীমান্তবর্তী বিভিন্ন বাজারে বিক্রেতাদের মধ্যে হাতেগোনা দু-একজন পুরুষ চোখে পড়লেও বেশির ভাগই রয়েছে নারী বিক্রেতা। পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ে জুমচাষে (পাহাড়ে সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করা জমি) উৎপাদিত ফলমূল এবং গভীর বনজঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা নানান জাতের সবজি নিয়ে সকাল-বিকেলে বিক্রি করতে চলে আসেন উপজাতীয় নারীরা। সবজির মধ্যে রয়েছে-বাঁশকুড়ল, তারাগাছ, কচুশাক, কচু লতি, কচু ফুল, কাঁচা ও পাকা পেঁপে, থানকুনি পাতা, কলার মোচা, জুমের কচু, মারফা (শসা জাতীয়), জুম কুমড়া, বরবটি উল্লেখযোগ্য। যেগুলোর অধিকাংশই প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়। উপজেলার পানছড়ির চেঙ্গী, বড়কলক, পুজগং, বাবুড়াপাড়া, কুড়াদিয়া, দাংগা বাজারে প্রতিদিন এসব সবজি কিনতে পাওয়া যায়। 

পুজগাং বাজারে জুমের সবজি ক্রেতারা বলেন, এখানে বনের ভেজালমুক্ত শাকসবজি পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিন প্রয়োজন মতো কিনে নিয়ে যাই। সার-ওষুধ ছাড়া ভেজাল মুক্ত বুনো সবজি ও জুমের সবজির চাহিদা এখানে অনেক বেশি। 

পাহাড়ি সবজি বিক্রেতা অনুরুপা ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ের জঙ্গলে গোনায় (দু'পাহাড়ের মাঝ অংশ), ছড়ার পাড় থেকে সবজি সংগ্রহ করে বিক্রি করা খুবই কষ্টের। পাহাড়ের পিচ্ছিল পথ পাড়ি দিয়ে ঝাড়-জঙ্গল থেকে সারা দিন বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি এনে বিকেলে এ বাজারে বিক্রি করি। সবজি বিক্রি করে প্রত্যেকদিন ২০০-৩০০ টাকা পাই। এ টাকা দিয়েই পরিবারের খরচ চালাতে হয়।

পুজগাং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শান্তি ময় চাকমা বলেন, পানছড়ি বাজারের ভেজালমুক্ত শাকসবজি কিনতে প্রতিদিন পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের লোকজন ভিড় করেন। দরিদ্র পরিবারের পাহাড়ি নারীরা দুর্গম উঁচুনিচু পাহাড় পাড়ি দিয়ে বনজঙ্গল থেকে বিভিন্ন সবজি এনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। শুধু তাই নয়, কেউ কেউ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন সবজি জাতীয় ফলমূল কিনে এনে বিক্রি করেন। এসব সবজি বিক্রি সেই টাকা দিয়ে তাঁদের সংসার চলে। 

চেঙ্গী ইউপি চেয়ারম্যান কালা চাঁদ চাকমা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজ ছাড়া অন্য কোন কাজের উৎস নাই। পাহাড়ি মায়েরা সকল কাজেই পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জুমচাষের ও বনজঙ্গল থেকে সংগ্রহ করে আনা টাটকা সবজি বিক্রি করে তাঁরা পরিবারে জোগান দেন। একই সাথে অনেকে কৃষিকাজ করে অর্থ উপার্জন করেন। 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]