• রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১০ ১৪২৮

  • || ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি

জেলা প্রশাশনের তৎপরতায় বন্ধ হলো ৩ অবৈধ করাতকল

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২১  

ছবি- নিজস্ব প্রতিবেদক।

ছবি- নিজস্ব প্রতিবেদক।

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ করাতকল সিলগালা করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এবং চৌধুরীপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেট মো. আশরাফ আলী ও রাঙামাটি বন বিভাগের (অশ্রেণীভুক্ত বনাঞ্চল বনীকরণ) সহকারী বন সংরক্ষক মো. আনিসুল হক।

বন বিভাগের বীজিতলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান ও ভাইবোনছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আজিজুল হক অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাঙামাটি বন বিভাগের (অশ্রেণীভুক্ত বনাঞ্চল বনীকরণ) সহকারী বন সংরক্ষক মো. আনিসুল হক জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ করাতকলের বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই প্রেক্ষিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধভাবে স্থাপিত করাতকলগুলো বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে মাইসছড়ি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া এলাকার গহীণ অরণ্যে স্থাপিত হেডম্যান স্বদেশপ্রীতি চাকমার মালিকানাধীন করাতকল, ১নং ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া এলাকায় স্থাপিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কিরণ চাকমার মালিকানাধীন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সাথোয়াই মারমার মালিকানাধীন করাতকল সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে করাতকল মালিক, মিস্ত্রী এবং শ্রমিকরা পালিয়ে যাওয়ায় এসময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বীজিতলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, অভিযানে সিলগালা করার পাশাপাশি করাতকলগুলোর করাত, চুমকি, হাতল, বেল্ট, হ্যান্ডেল এবং কাঠের নমুনা জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও করাতকলের মালিকদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেট মো. আশরাফ আলী বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় অবৈধভাবে স্থাপিত করাতকলগুলো বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এবং পর্যায়ক্রমে জেলার সকল অবৈধ করাতকলগুলো সিলগালা করে দেয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, বীজিতলা রেঞ্জের আওতাভুক্ত সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধভাবে স্থাপন করা করাতকল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বীজিতলা রেঞ্জের আওতায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে ৪৯৬৪.৫০ একর। এর মধ্যে ২৫৫নং মাইসছড়ি মৌজায় ১৩১২.৫০ একর এবং ২৫৭নং নুনছড়ি মৌজায় রয়েছে ৩৬৫২ একর। বীজিতলা রেঞ্জটি রাঙামাটি বন বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হলেও ভৌগলিক সীমানায় এর পুরোটাই খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত। এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিলো অন্তত সাতটি অবৈধ করাতকল। যেখানে দিনে-রাতে সমানতালে চলতো বনের কাঠ চিরাই।

সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের অভিযানে সিলগালা করা হলো বড় তিনটি করাতকল। পর্যায়ক্রমে সবকটি অবৈধ করাতকল সিলগালা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]