• মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি
৭৯

১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে: পবন চৌধুরী

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২০  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।

 

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর পুরোপুরি চালু হলে এতে দেশের ১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। এই শিল্পনগরে যে আয় হবে, সে আয় দিয়েই বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মিরসরাইয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পবন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়েই আকাঙ্খিত অর্থনৈতিক মুক্তির পথে হাঁটছেন। সেই লক্ষ্যেই সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরসহ ১০০টি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।  

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশে অন্তত এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে যাবে এবং সমৃদ্ধির পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

পবন চৌধুরী জানান, প্রথম পর্যায়ে ২১ জনকে ৫ কোটি ১৪ লাখ, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৩ জনকে ৬ কোটি ২২ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। শনিবার ১৩২ জনকে ২২ কোটি ৫১ লাখ টাকার চেক দেওয়া হলো।  

‘তবেই এটাই শেষ নয়। ক্ষতিগ্রস্থদের আবাসন পল্লী (বাড়ি) করে দেওয়া হবে। ৪০০ পরিবারকে ৫ শতাংশ জমিতে ঘর করে দেওয়া হবে। সেখানে মসজিদ, স্কুল কলেজ কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করা হবে। ’ যোগ করেন বেজা চেয়ারম্যান।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. আবু হাসান সিদ্দিক, মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জসীম উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মিনহাজুর রহমান, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. কায়সার খসরু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুবল চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর উপমহাদেশের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল। চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে সমুদ্র উপকূলে গড়ে ওঠা এই মনোরম অর্থনৈতিক অঞ্চল মিরসরাই থেকে ফেনীর সোনাগাজী পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৩০ হাজার একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

এতে ২৫টি আলাদা জোন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক এ মহাযজ্ঞে ইতোমধ্যে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- প্রকল্পটির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে এক হাজার ৫৪ একর জমিতে গড়ে ওঠবে ‘ইন্ডিয়ান ইকোনমিক জোন’। পাশাপাশি একটি আইটি পার্ক করতে ৭২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ভারত। এছাড়া সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন কোম্পানিও এখানে বিনিয়োগ করবে।  

এ শিল্পনগরে বিনিয়োগের জন্য করোনাকালেও দেড় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। যার মধ্যে এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। একটি অগ্রাধিকারমূলক মেগাপ্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করে সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।  

২০১৬ সালে চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ৩০ হাজার একর জমি নিয়ে পথচলা শুরু হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর প্রতিষ্ঠার। এর মধ্যে ১৬ হাজার একর জমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষে দেওয়া হবে বলে জানান বেজার ম্যানেজার মো. শরীফুল বাশার।  

এ প্রকল্পের কাজ ৫ বছর শেষ হতে চলছে। বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পিত এ শিল্পনগরীতে প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ শিল্প জোনে বিনিয়োগের জন্য পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে ভাবছে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।  

এ প্রকল্পের সাথে রয়েছে সোনাগাজীতে বিমান বন্দর, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের সাথে ২৩ কিলোমিটার সুপার ড্রাইভ নির্মাণ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য রয়েছে বনায়ন প্রকল্প।