• বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ১ ১৪২৮

  • || ০১ রমজান ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি

স্বনির্ভরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ইউপিডিএফ কার্যালয় সচল, জনমনে ভীতি

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২১  

ছবি- সংগৃহিত।

ছবি- সংগৃহিত।


খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা সদরের স্বনির্ভর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের দলীয় কার্যালয়টি পুনরায় খোলা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন ফেডারেশনের জেলা কমিটির সভানেত্রী ও সশস্ত্র নারী নেত্রী এন্টি চাকমার নেতৃত্বে সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী তালা ভেঙে কার্যালয়টি পুনরায় চালু করে সেখানে অবস্থান করছেন বলে একটি সূত্র জানায়।

সূত্র মতে, বর্তমানে কার্যালয়ে অবস্থানরত এন্টি চাকমা ও তার সহযোগীরা সবাই দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি-সোঠা নিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়ায় স্বনির্ভরসহ আশে-পাশের এলাকার স্থানীয়দের মধ্যে এক প্রকার ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, জেলা সদরের স্বনির্ভর বাজারে অবস্থিত দলীয় অফিসে বসেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা পরিচালনা করতো প্রসীত পন্থি ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। এই অফিসে বসেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকার চাঁদাবাজির কৌশল ও চাঁদার টাকা ভাগাভাগিসহ নানা ধরণের রাষ্ট্রেবিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করতো ইউপিডিএফ। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন ও যারা চাঁদাবাজিতে বাঁধা কিংবা চাঁদা দিতোনা তাদের ধরে এনে এই অফিসেই নির্যাতন চালানো হতো। 

তবে, ২০১৮ সালের ১৮ আগষ্ট  শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় দলীয় কর্মসূচির জন্য দলীয় অফিসের সামনে জড়ো হন ইউপিডিএফ (প্রসীত) সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় পাহাড়ের আরেক আঞ্চলিক সংগঠন এমএন লারমা সমর্থিত জেএসএস নেতা-কর্মীরাও সেখানে তাদের প্রতিহতের ঘোষনা দিলে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। চলে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ।  

গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা, সহ সম্পাদক এলটন চাকমা ও মহলছড়ি উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী জিতায়ন চাকমা। হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা পলাশ চাকমা, বরুণ চাকমা ও রুপন চাকমা নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী। আহত তিনজনকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এরপর থেকেই স্বনির্ভরের দলীয় কার্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। এসময় স্থানীয়দের মাঝে একপ্রকার স্বস্তি ফিরে আসে। প্রকাশ্যে বন্ধ হয়ে যায় স্বনির্ভরে ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। ভাটা পড়ে চাঁদাবাজিতেও। তবে সবকিছু মিলিয়ে শান্ত হয়ে আসে জেলা সদরের সবচেয়ে উত্তপ্ত ঘটনাপ্রবন এই এলাকার পরিবেশ। 

তবে আজ নতুন করে ইউপিডিএফ এর কার্যালয়টি খোলার পর থেকেই স্থানীয়দের অনেকেই বাজার ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। যারা বাজারে দোকান-পাট পরিচালনা করছেন তারাও রয়েছেন আতঙ্কের মধ্যে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিল উইমেন ফেডারেশনের এক কর্মী জানান, দলীয় প্রধান প্রসীত বাবুর নির্দেশেই দলীয় অফিসটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এখন থেকে এ অফিসে বসেই দলীয় কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জানান, দলীয় কাজে কেউ বাঁধার সৃষ্টি করলে প্রসীত বাবুর নির্দেশে তাদের সর্ব শক্তিহ দিয়ে প্রতিহত করা হবে। 

স্থানীয় উপজাতীয় এক সবজি বিক্রেতা জানান, ইউপিডিএফ এর অফিসটি বন্ধ হয়ে যাবার পর থেকে শান্তিতে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন তিনি। কিন্তু নতুন করে অফিস খোলার পর তিনি ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নেবার চেষ্টা করছেন। কারন হিসেবে তিনি জানান, এখন থেকে আগের মতোই সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজি শুরু করবে, চাঁদা না দিলে ইউপিডিএফের অফিসে নিয়ে মারধর, অত্যাচার করা হবে। 

বাঙ্গালী এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, সকালে ইউপিডিএফ অফিস খোলার পর থেকেই বাজারে লোক সমাগম কমে গেছে। আতঙ্কে অনেকেই বাড়িতে চলে গেছেন। তিনিও হোটেলের দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নিয়েছেন এবং আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। 

স্বনির্ভর বাজারে পুলিশের একটি টিম থাকলেও সাধারণ মানুষ ভরসা রাখতে পারছেন না। এ ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে পুরো শহরজুড়ে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]