• সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১১ ১৪২৭

  • || ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি
৭৫৩

যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে

সাক্ষাৎয়ের সৌভাগ্য হয়েছিল তামান্নার

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২০  

ভালো কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম। আর তা যদি হয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে তাহলে তো কথাই নেই! আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। এদেশের মানুষদের ভালোবাসি। তাদের জন্য কিছু করতে চাই সবসময়’-ঠিক এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ থেকে মাস্টার্স ও অনার্স-দুটোতেই প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়া মেধাবী মুখ ফৌজিয়া নিজাম তামান্না।

পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেও তিনি পেয়েছেন আর্শীবাদ। উৎসাহ দিয়ে তামান্নাকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তোমার লক্ষ্য যদি ঠিক থাকে, তাহলে তুমিও একদিন পৌঁছে যাবে সাফল্যের চূড়ায়। তার জন্য চাই সততা, নিষ্ঠা আর নিরলস পরিশ্রম।’ কথাগুলো আজও অনুপ্রাণিত করে তামান্নাকে।

তামান্নার স্বপ্ন বুদ্ধিভিত্তিক রাজনীতির চর্চা করা।

মেধাবী শিক্ষার্থীরা তো রাজনীতিতে আসেন না?-এমন প্রশ্ন করতেই সদা চটপটে তামান্না হাসি ছড়িয়ে বললেন, রাজনীতি নিয়ে মানুষের বিরুপ ধারণা আছে। সেই ধারণা পাল্টাতে চাই আমি। মেধাবী শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে না আসলে গতানুগতিক রাজনীতির পথটা পরিবর্তন হবে কেমন করে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুইবার সাক্ষাৎ করেছেন রবীন্দ্র সংগীত প্রিয় ফৌজিয়া নিজাম তামান্না। সেই গল্পটা শুনতে চাইলে তিনি জানান, মানুষের মুখে ফোটাতে চাই হাসি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন আমার হাতটি স্পর্শ করলেন তখন আমার এই চাওয়া যেন সংকল্পে পরিণত হলো। সামনাসামনি একজন মানুষকে দেখে আর তার কথা শুনে সেদিন ভীষণ আবেগে আপ্লুত হয়েছিলাম। একবার নয়, বঙ্গবন্ধু কন্যার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার দুইবার।  

তাকে দেখেই রাজনীতিতে আসার ইচ্ছাটা জেগেছিল হৃদয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ থেকে মাস্টার্স ও অনার্স প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার দীক্ষাটা সেই ছোটবেলা থেকেই পেয়েছি পারিবারিকভাবে।  
জাতীয় নির্বাচনের পর ২০১৯ সালে গনভবনে খু-উ-ব কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎয়ের সুযোগ হয় আমার। এই সময় আমার সঙ্গে ছিলেন আরও অনেকে। দিনটি এখনও আমার কাছে স্মরণীয়। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর এলেন তিনি। নিজের পরিচয় জানার পর জানতে চাইলেন কেমন আছি। আমি ভালো বলতেই তার হাসি ছড়িয়ে দিলেন মুহুর্তে।

কথা বললেন আমার সঙ্গে। পড়ালেখার খোঁজ-খবর নিলেন। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত রয়েছি শুনে ভীষণ খুশি হলেন। জানতে চাইলেন আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। দোয়া করলেন। বললেন, ‘তোমার লক্ষ্য যদি ঠিক থাকে তাহলে তুমি একদিন সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে যাবে। তার জন্য চাই সততা, নিষ্ঠা আর নিরলস পরিশ্রম।’ কথাগুলো আজো আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এদিন আমি মাইক্রোফোন হাতে তার সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট কথা বলার যে সুযোগটি পেয়েছিলাম তা কখনই ভোলার নয়।

তবে সাদামাটা জীবন যাপনের মানুষ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন মানবিক গুণাবলীর পরিচয় আমি পেয়েছিলাম আর একবার ২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট। আওয়ামী স্বেচ্ছা-সেবক লীগের শোকাবহ আগস্ট নিয়ে ‘ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও চিত্র প্রদর্শনীতে কাজ করার জন্য  ভোলেন্টিয়ার খুঁজছিলেন তারা।

আমি আর আমার প্রিয় বন্ধু বিন্তি আয়োজনের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে যাই। অনুষ্ঠান শেষে জানতে পারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়া থেকে বিকেল ৪টায় ধানমন্ডির ৩২ এর বাসায় মহিলা আওয়ামী লীগের মিলাদ মাহফিলে আসবেন। তার আসার আগেই অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করা হলো। একটু পর মোনাজাত শেষ করে তিনি ২য় তলা থেকে নিচের পিছনের বারান্দায় তার আদরের ছোট বোন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা আপা সহ এসে চেয়ারে বসলেন।

আমি তখন মাত্র ২ হাত দূরত্বে। দেখলাম দুই জনেই অঝোরে কাঁদছে। পরিবেশটা বেশ ভারী হয়ে গেল। কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর প্রধানমন্ত্রী শান্ত হওয়ার চেস্টা করলেন। হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীর চোখ পড়লো আমাদের দুইজনের দিকে। আমরা কিছুটা ভয়ে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে স্বজোরে সালাম দিলাম। এখানে একটা কথা বলে রাখি প্রধানমন্ত্রীর পাশে যারা ছিলেন সবাই সমাজের গুণীজন ও পরেম শ্রদ্বেয়। সেখানে আমি ছিলাম কনিষ্ঠ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার দিকে তাকালেন। আমি পদধূলি নিব বলে তাকে জানালে তিনি চোখ মুছে সায় দিলেন। তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত এস এস এফ আমাদের জায়গা করে দিলেন। তার পদধূলি নেবার পর তিনি আমার মাথায় হাত রাখলেন। আমি একেবারে নির্বাক। কি চমৎকার মানুষ। কোনো অহংকার নেই। খু-উ-ব-ই  সাবলীল ও সরল রাষ্ট্র নায়ক। উনি মমতাময়ী, ব্যক্তিত্ববান। দূরদর্শী নেতৃত্বের অধিকারী।
তিনি তারুণ্য পছন্দ করেন। তারুণ্য ভালোবাসেন। তারুণ্যই তার চলার গতি। আর কেনো না-ই-বা হবে? তার মনটাই যে সদা তরুণ। আর তরুণ মনই তো পারে প্রখর উত্তাপের শহরে এক নিমিষে স্বস্থির বৃষ্টি এনে দিতে।

অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর