• বৃহস্পতিবার   ১৭ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৪ ১৪২৮

  • || ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি

সপ্তাহখানেকের মধ্যেই বদলে যাচ্ছে খাগড়াছড়ির স্বাস্থ্যসেবার চিত্র

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১ মে ২০২১  

ছবি- সংগৃহিত।

ছবি- সংগৃহিত।

কিছুটা দেরীতে হলেও বদলের হাওয়া লেগেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার স্বাস্থ্য খাতে। নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হচ্ছে এ জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থা। বর্তমানে সমতলের অনেক জেলাকে ছাপিয়ে গেছে এখানকার সেবার মান।

পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে জরুরী ঔষধ সরবরাহ্, প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্র ও অক্সিজেন সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রোগীদের সেবা দিতে প্রানান্ত প্রচেষ্ঠা রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের।

এছাড়া আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকেও কঠোর নজরদারিতে রেখেছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা। করোনা রোগীদের জন্য আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে যুক্ত করা হয়েছে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলাসহ অক্সিজেন কনসেনট্রেটর। ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন। আর আর খুব সহসাই এর সাথে সংযোজন হতে যাচ্ছে আইসিইউ ইউনিট।

সদ্য স্থাপিত এই অক্সিজেন প্ল্যান্টটি চালু হবে এক সপ্তাহের মধ্যেই। প্রায় ছয় হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার প্ল্যান্টটি চালু হলে তা থেকে একসঙ্গে সুবিধা পাবেন ১৫৬ জন করোনায় আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগী। এছাড়া আইসিইউর জন্য ইউনিট স্থাপনের কাজও শেষ হয়ে গেছে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। এই দুটি ইউনিট চালু হলে অক্সিজেন কিংবা আইসিইউ সুবিধার জন্য আর শহরমুখি হতে হবে না এ জেলার মানুষদের।

খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, ‘করোনা ছাড়াও আগে রোগীদের জন্য অক্সিজেন সেবার প্রয়োজন হতো। আমরা তখন রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিতে পারতাম না। করোনার কারণে সেই সংকট দিন দিন আরও বাড়ছিলো। তবে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন আমাদের সেই হতাশা দূর করেছে। আশাকরি প্ল্যান্টটি চালু হলে রোগীরা দারুণভাবে উপকৃত হবেন।’

সিভিল সার্জন ডা. নূপুর কান্তি দাশ বলেন, ‘খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও এখানে জনবল রয়েছে ৫০ শয্যার সেবা দেয়ার মতো। তবুও আমরা এই স্বল্প সংখ্যক জনবল নিয়েই এখানে অন্যান্য রোগীদের পাশাপাশি কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যেই এখানে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে এই সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট। এখান থেকে একযোগে জরুরী অক্সিজেন সেবা নিতে পারবেন ১৫৬ জন রোগী। এই প্ল্যান্টটি চালু হলে আমরা করোনা আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারবো। আর আইসিইউ ইউনিট চালু হলে তা আরও পূর্ণাঙ্গভাবে সমৃদ্ধ হবে।’

কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সর্বশেষ ধাপ হলো আইসিইউ সেবা। সদর হাসপাতালে কোন আইসিইউ ইউনিট ছিলো না। আইসিইউ সেবা দিতে হলে এখানে একটি আলাদা ইউনিট প্রয়োজন। ইতোমধ্যে একটি ওয়ার্ডকে সংস্কার করে আইসিইউ ইউনিটের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি আইসিইউ শয্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। খুব সহসাই এখানে আইসিইউ সেবা চালু করতে সক্ষম হবেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. নূপুর কান্তি দাশ। তবে আইসিইউ ইউনিট পরিচালনার জন্য দক্ষ কানসালটেন্ট এবং দক্ষ নার্স প্রয়োজন। সেই সংকট উত্তরণের জন্যেও সর্বোচ্চ প্রচেষ্ঠা রয়েছে তাদের।

খাগড়াছড়ির স্বাস্থ্যখাতের এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য বিভাগের আহবায়ক এমএ জব্বার। জেলা সদর হাসপাতালসহ সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিতভাবেই তদারকি করছেন তিনি। দিনে-রাতে সমানতালে প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ সহযোগিতা করে চলেছেন নিরলসভাবে।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য বিভাগের আহবায়ক এমএ জব্বার বলেন, ‘এই কোভিড পরিস্থিতিতে আমরা স্বাস্থ্য খাতকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। আমরা চাই এ জেলার একটি মানুষও যেনো চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ না করেন। ধীরে ধীরে আরও সমৃদ্ধ করা হবে চিকিৎসা খাতকে।’

তিনি বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত প্রায় ৯৫ শতাংশ রোগীই সাধারণ চিকিৎসাতে সুস্থ্য হয়ে ওঠেন। এই দুটি ইউনিট চালু হলে কোভিড-১৯ রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য পরিপূর্ণভাবে সমৃদ্ধ হবে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল। আমরা সেই লক্ষ্যেই সর্বাত্মক প্রচেষ্ঠা করে চলেছি।’

ইতোমধ্যে সেবা মানে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্থানের মর্যাদা পেয়েছে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর সদর হাসপাতাল। মানের দিক বিবেচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পর্যায়ে ম্যানেজম্যান্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) সেবার মান নির্ণয়ের স্কোরে ২০১৯ সালে প্রথম হয়েছে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল।

এছাড়া সারাদেশের মধ্যে স্কোরে ১১তম অবস্থান রয়েছে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নতুন কেবিন স্থাপন, ডাক্তার, নার্সদের রোগীর প্রতি আন্তরিকতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ্, শিশু রোগীদের জন্য স্পেশাল কেয়ার স্থাপন, রোগী পরিবহনে নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংযোজনসহ নানা কারণে দৃষ্টি কেড়েছে জেলাবাসীর। আগের চেয়ে অনেকাংশেই কমে গেছে রোগীদের চিরাচরিত দুর্ভোগ।

সূত্র: তৃতীয় দৃষ্টি।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]