• বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ১ ১৪২৮

  • || ০১ রমজান ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি

রামগড়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ড আত্নসাতের অভিযোগ

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৯ মার্চ ২০২১  

ছবি- সংগৃহিত।

ছবি- সংগৃহিত।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার ১ নং রামগড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আলমের বিরুদ্ধে ইউনিয়নের ২ উপকারভোগীর ভিজিডি কার্ডের চাল আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উপকারভোগীরা পৃথকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগপত্রও দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে। 

গত ২রা মার্চ ও ৯ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা পৃথক দুটি অভিযোগপত্রে উপকারভোগী মাসুদা আক্তার ও জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেছেন, সমাজে অসচ্ছল ও হতদরিদ্র হওয়ায় তারা ইউনিয়ন পরিষদে তাদের নামে একটি করে ভিজিডি কার্ড প্রদানের আবেদন করিলে স্ব স্ব ইউপি সদস্যের মাধ্যেমে তাদের ভিজিপি কার্ডের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়, যার কার্ড নম্বর যথাক্রমে ৫৪০ ও ৪০৪। অভিযোগ পত্রে বলা হয়, উক্ত অভিযোগকারীদের নামে ভিজিডি কার্ড ইস্যু করার পর সম্প্রতি ২দফায় উক্ত কার্ডের বিপরীতে ইউনিয়ন পরিষদে ৩০ কেজি করে মোট ৬০ কেজি খাদ্যশষ্য বিতরণ করা হলেও তারা কোন খাদ্যশষ্য পাননি এবং এ নিয়ে চেয়ারম্যানের নিকট গেলে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম, তাদের নামে কোন ভিজিডি কার্ড নাই বলে জানিয়ে দেন। 

এমতাবস্থায় তারা নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে এর সুরাহা ও তাদের নামীয় ভিজিডি কার্ডের বিপরীতে তাদের নামে বরাদ্দকৃত খাদ্যশষ্য পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানান।

তবে, অভিযোগকারী ও তাদের স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, তারা বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, তাদের নামে সরকারী ভিজিডি কার্ড ইস্যু হয়েছে, কিন্তু তারা কোন কার্ড হাতে পান নি। তথ্য যাচাই করতে রামগড় উপজেলা প্রশাসনের সরকারী ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি কার্ডের নামীয় তালিকা যাচাই করতে চাইলেও ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত পেজে নামীয় কোন তালিকা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযোগকারী মাসুদা আক্তারের মুঠোফোনে কল করা হলে তার মা শামসুন্নাহার জানান, স্থানীয় এলাকাবাসীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন তার মেয়ের নামে একটি ভিজিডি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। এনিয়ে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও চেয়ারম্যান তাকে সাফ জানিয়ে দেন তার মেয়ের নামে কোন ভিজিডি কার্ড সরকার ইস্যু করেনি। অন্যদিকে আরেক অভিযোগকারী জান্নাতুল ফেরদৌসের স্বামী মোঃ ইউনুসের কাছে, ‘তার স্ত্রীর নামে কার্ড ইস্যু হয়েছে এমন তথ্য কার কাছ থেকে পেয়েছেন’ জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমকে ফোন করা হলে তিনি অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং প্রতিপক্ষের লোকজন রাজনৈতিকভাবে তাকে হয়রাণি করার জন্যই এসব অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ১ নং রামগড় ইউপির জন্য নির্ধারিত ভিজিডি কার্ডগুলো উপকারভোগীদের কাছে বুঝিয়ে দেয়ার পর ৩টি কার্ড বাকি ছিলো, তিনি সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া অভিযোগের সত্যতা প্রমানীত হলে তিনি আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতে রাজি আছেন বলেও জানান।

অভিযোগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ বলেন, এ বিষয়ে তিনি তদন্ত করবেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে ভুক্তভোগীরা তাদের জন্য নির্ধারিত খাদ্যশষ্য ফেরত পাবেন এবং এ ঘটনায় জড়িত যে ই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]