• শুক্রবার   ১৮ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৪ ১৪২৮

  • || ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি

ভূতের টাকায় পানছড়িতে সরকারি ভবন সংস্কার!

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২১  

ছবি- সংগৃহিত।

ছবি- সংগৃহিত।

 

তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের ১ম পর্ব

উপজেলা পরিষদের ব্যাচেলর কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ কাজের চিত্র।

ব্যাপারটা অদ্ভূত হলেও খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনের সংস্কার কাজ চলছে ভূতের টাকায়। আর কার নির্দেশে এই কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে তাও জানেন না খোদ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।

সরেজমিনে পানছড়ি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবকটি আবাসিক ভবন পরিদর্শন করে দেখা গেছে সেখানে চলছে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন অংশ সংস্কার ও ভবন রঙ করণের কাজ। তবে কোন প্রকল্পের আওতায় কিংবা কোন প্রতিষ্ঠান হতে এ কাজের অর্থায়ন করা হয়েছে তার কোন তথ্যই দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ কাজের প্রসঙ্গে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। এটা উপজেলা প্রকৌশলী অরুণ কুমার দাস ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে কোন তথ্য নেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের খাগড়াছড়ি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান এর কাছেও। তিনি বলেন, ‘যদি এমন কোন কাজ হয়ে থাকে তবে তা উপজেলা পরিষদের ফান্ড থেকে হতে পারে।’

কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন রঙ করণের চিত্র।

তবে এ প্রসঙ্গে চার দফায় পৃথক পৃথক বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পানছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী অরুণ কুমার। প্রথমে তার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেছিলেন, ‘এগুলো ভূয়া খবর। উপজেলা পরিষদের ডরমেটরিতে কোন সংস্কার কাজ হচ্ছে না। আমাকে বিব্রত করার জন্য কেউ আপনাদের ভুল তথ্য দিয়েছে।’

পরবর্তীতে তার কার্যালয়ে গিয়ে ফের কথা হয় প্রকৌশলী অরুণ কুমার দাস’র সাথে। এবারে তিনি বললেন, ‘আসলে আমরা ছোট ছোট সংস্কার কাজগুলো কোন টেন্ডার ছাড়াই করিয়ে নেই। পরে সমন্বয় মিটিংয়ে ভাউচার উত্থাপন করি।’

কোন টেন্ডার ছাড়া আগেই সরকারি ভবন সংস্কার করে পরে তার বিল নেয়া বৈধ কীনা এমন প্রশ্ন করলে তৃতীয়বারে তিনি বলেন, ‘সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের আমি চিনি না। আমি আসলে জানিও না যে, কে বা কারা এই কাজ করতে লোক পাঠিয়েছে।’

কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনের ছাদ সংস্কারের অংশ বিশেষ।

‘সরকারি ভবনে ভূতুরে টাকায় সংস্কার কাজ সমাপ্ত হয়ে যাচ্ছে, অথচ এ ব্যাপারে আপনারা যারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আছেন তারা কিছুই জানেন না’ -এমন প্রশ্নে এবার মুখ খুললেন প্রকৌশলী অরুণ কুমার দাস। শেষবারে তিনি জানালেন, স্থানীয় প্রভাবশালী ঠিকাদার উত্তম কুমার দেব ও তার ব্যবসায়িক সহযোগী হোসেন শরীফ এই সংস্কার কাজ ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের নেপথ্যে রয়েছেন।

কোন বরাদ্দ নেই অথচ সরকারি ভবনে কীভাবে লোক পাঠিয়ে সংস্কার কাজ করছেন তা জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় স্থানীয় ঠিকাদার উত্তম কুমার দেব এর সাথে। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ায় তিনি বলেন, ‘কথা বলার মতো সময় আমার কাছে নেই। আপনার যা ইচ্ছে হয় লিখে দেন।’

ঠিকাদার উত্তম কুমার দেব এর ব্যবসায়িক সহযোগী হোসেন শরীফের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। এটা উত্তম বাবু বলতে পারবেন।’

 

সূত্র: তৃতীয় দৃষ্টি।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]