• মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১০ ১৪২৭

  • || ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি
১৩৫

বিদেশি সিগারেট কেন কিনছেন তরুণরা

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২০  

দেশে সিগারেটের চোরাচালান এবং অবৈধ কেনাবেচা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বন্দর ও বিমানবন্দরের মতো বৈধ পথ ব্যবহার করেই এসব অবৈধ সিগারেট আনছে চোরাকারবারিরা। এসব সিগারেট থেকে সরকার রাজস্বও পাচ্ছে না।

প্রায় সময় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি সিগারেটের ছোটখাট কিছু চালান ধরা পড়ছে। কিন্তু বড় চালানগুলো বিমানবন্দর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যার কারণে বারবার ধরা পড়ার পরও অবৈধ এ সিগারেট আনছেন চোরাকারবারিরা।

ফলে বৈধ পথে আমদানি না হলেও বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেট ইজি, মনড ও পাইন দেশে সহজলভ্য। এসব চোরাই সিগারেটের কারণে উঠতি বয়সের তরুণ, নারীরাও নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। এসব বিদেশি সিগারেটে নিকোটিনের পরিমাণ কম বলে বিক্রি করা হলেও বাস্তবে এর ক্ষতি একই।

চোরাই বিদেশি সিগারেটে আসক্তির কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদেশি সিগারেট দুইভাবে আমদানি করার সুযোগ আছে। সাধারণ আমদানি ও বন্ডেড ওয়্যার হাউসের মাধ্যমে। সাধারণ আমদানির মাধ্যমে সিগারেট আনতে হলে উচ্চ শুল্ককর পরিশোধ করতে হয়। শুল্কমুক্ত সুবিধায় নির্দিষ্ট পরিমাণে বন্ডেড ওয়্যার হাউসের মাধ্যমে আমদানি করা যায়। বৈধভাবে সিগারেট আমদানিতে ৬০৪ শতাংশ শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়।

কিন্তু এসব চোরাই সিগারেটের ক্ষেত্রে সরকারকে শুল্ক দিতে হয় না। ফলে এসব সিগারেট কম দামে পাওয়া যায়। অনেকেই সস্তায় এ সিগারেট কিনতে পারছেন। এতে বিদেশি সিগারেটের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন ধুমপায়ীরা।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইজিসহ বিদেশি ব্রান্ডের সিগারেট বৈধ পথে আমদানি করা হয় না। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচল বন্ধের আগে প্রায় প্রতিদিন শতশত কার্টন ‘ইজি লাইট’ ব্রান্ডের সিগারেট জব্দ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য কিংবা অন্য কোন দেশ থেকে অবৈধভাবে এসব আনা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৪ মাসে অন্তত আড়াই হাজার কার্টন ইজি ব্রান্ড সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

বিদেশি সিগারেটের মধ্যে ইজি ব্রান্ড সিগারেট গত ২৪ বছর ধরে তৈরি করে আসছে ‘কোরিয়ান টোবাকো জিনসেন করপোরেশন’। কোম্পানিটি এ ব্রান্ডের অন্তত দশ প্রকারের সিগারেট আন্তর্জাতিক বাজারে ছেড়েছে। তাদের তৈরি সিগারেটে নারীদের আসক্তি বেশি।

ইজি ব্রান্ডের সিগারেটের মধ্যে রয়েছে-ইজি ক্লাসিক, ইজি সোন, ইজি স্ট্রবেরি, ইজি মেনথল, ইজি লাইট, ইজি ডবল শট, ইজি গোল্ডেন লিফ, ইজি চেঞ্জ ও ইজি ফ্লু। এর মধ্যে শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে ইদানিং বেশি আসছে ইজি লাইট ব্রান্ডের সিগারেট। এক প্যাকেটে আছে ২০ শলাকা। বাজার দর প্রতি প্যাকেট ১৩০ টাকা থেকে ২০০ টাকা।

৪ বছর ধরে ইজি ব্রান্ডের সিগারেট সেবন করেন চট্টগ্রামের আমান বাজার এলাকার ‘বনফুল’ মিষ্টির দোকানের মালিক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘২৫ বছর বেনসন সিগারেট সেবন করেছি। ইজি ব্রান্ডের সিগারেটে ‘নিকটিন কম’। তাই ফুসফুস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কম। এছাড়া এসব সিগারেটের ফ্লেভার ভিন্ন।

অনলাইন ঘেঁটে জানা যায়, ইজি ব্রান্ডের দশ প্রকার সিগারেটে প্রতি শলাকায় ‘টার’ আছে ১ মিলিগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম। ‘নিকোটিন’ এর পরিমাণ ১ মিলিগ্রাম থেকে দশমিক ৬ মিলিগ্রাম।

তবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) এর একজন কর্মকর্তা জানান, কোরিয়ান কোম্পানি ইজি ব্রান্ডের প্রতি শলাকায় ‘টার’ ও ‘নিকোটিনের’ পরিমাণ কম বলে প্রচার করলেও বাস্তবে কম নয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন দক্ষিণ পাহাড়তলী আরবান স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডা. বিজয় কৃষ্ণ সরকার বলেন, ‘সিগারেটে টার বা নিকোটিনের পরিমাণ কম থাকুক বা বেশি থাকুক অন্যান্য সিগারেটের মতো স্বাস্থ্যের জন্য সমান ক্ষতিক্ষর। নিকোটিন কম বলে প্রাণঘাতি এ পণ্যকে বৈধ বা অবৈধ পন্থায় বাজারজাতে কখনো উৎসাহিত করা যাবে না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুচরা বাজার এসব ব্রান্ডের সিগারেটে সয়লাব হয়ে গেছে। একাধিক খুচরা বিক্রেতা জানান, নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারের এক শ্রেণির চোরাকারবারি বিমানবন্দরের মতো বৈধ পথে আমদানি নিষিদ্ধ এসব সিগারেট আনছেন। খুচরা বাজারে বিক্রি হওয়া এসব সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে বাংলায় সতর্কীকরণ লেখা দেখা যায়নি। রিয়াজউদ্দিন বাজার থেকে এসব সিগারেট পাইকারি দরে কিনে আনেন খুচরা বিক্রেতারা।

কাস্টমস সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সিগারেট আমদানির পরিমাণ কম। তবে বন্ডেড ওয়্যার হাউসগুলো শুল্কমুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে বিদেশি সিগারেট আমদানি করে থাকে। বন্ডেড ওয়্যার হাউসের আমদানি করা সিগারেট খোলা বাজারে বিক্রির সুযোগ নেই। এর আগে ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সিগারেটের তিনটি বড় চালান জব্দ করেছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। চোরাচালানের এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল চোরাকারবারিদের হদিস আজও পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ জোবায়ের সৈয়দ বলেন, করোনা পরিস্থিতির আগে বিমানবন্দরে বিদেশি সিগারেটসহ অনেকেই আটক হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালান আইনে মামলা দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সিআইডি এসব মামলা তদন্ত করছে।

 

 

অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর