• বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৮ ১৪২৭

  • || ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি
১৮৬

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পুরস্কৃত করা হয় যেভাবে

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর খুনিদের রক্ষায় একটি অধ্যাদেশ জারি করেন ‘স্বঘোষিত’ রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমেদ। পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে খুনিদের রক্ষার পথটি স্থায়ী করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর ওই ইনডেমনিটি অ্যাক্ট বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বাতিল করলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ খোলে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ক্ষমতায় বসে সামরিক আইন জারি করেন বঙ্গবন্ধু সরকারেরই মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক, তার পেছনে ছিল সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। তার দেড় মাসের মধ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ জারি হয়। ‘দি বাংলাদেশ গেজেট, পাবলিশড বাই অথরিটি’ লেখা অধ্যাদেশটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন খন্দকার মোশতাক ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এইচ রহমান।

কি ছিলো সেই অধ্যাদেশে
দুই অংশের অধ্যাদেশটির প্রথম অংশে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বলবৎ আইনের পরিপন্থি যাই কিছুই ঘটুক না কেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টসহ কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না। আর দ্বিতীয় অংশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে যাদের প্রত্যায়ন করবেন তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হল। অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না। এই অধ্যাদেশ জারির পেছনে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের হাত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে; যিনি তার ঠিক আগেই সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে সময়ে সামরিক অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল নিজেই রাষ্ট্রপতির পদে আসিন হয়ে জিয়া ওই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করেন।


খুনীদের পুরস্কার জিয়ার
মোশতাক আর জিয়াউর রহমান সেই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বা বহাল রেখেই বসে থাকেনি। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী খুনিদের নানাভাবে পুরস্কৃতও করেছিল। এমনকি খুনিদের যোগ্যতা না থাকার পরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে ভিন্ন ভিন্ন কূটনৈতিক পদে। ১. লে. কর্নেল শরিফুল হককে (ডালিম) চীনে প্রথম সচিব ২. লে. কর্নেল আজিজ পাশাকে আর্জেন্টিনায় প্রথম সচিব ৩. মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে আলজেরিয়ায় প্রথম সচিব ৪. মেজর বজলুল হুদাকে পাকিস্তানে দ্বিতীয় সচিব ৫. মেজর শাহরিয়ার রশিদকে ইন্দোনেশিয়ায় দ্বিতীয় সচিব ৬. মেজর রাশেদ চৌধুরীকে সৌদি আরবে দ্বিতীয় সচিব ৭. মেজর নূর চৌধুরীকে ইরানে দ্বিতীয় সচিব ৮. মেজর শরিফুল হোসেনকে কুয়েতে দ্বিতীয় সচিব ৯. কর্নেল কিসমত হাশেমকে আবুধাবিতে তৃতীয় সচিব ১০. লে. খায়রুজ্জামানকে মিসরে তৃতীয় সচিব ১১. লে. নাজমুল হোসেনকে কানাডায় তৃতীয় সচিব ১২. লে. আবদুল মাজেদকে সেনেগালে তৃতীয় সচিব।
ইনডেমনিটি আইন বিলুপ্তকরণে শেখ হাসিনার সরকার ছাড়া কেউই পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে এর দায় ১৯৭৫-১৯৯৬ পর্যন্ত যারা যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাদের সকলের। আজকের এই দিন বাংলাদেশের জন্য আরেকটি কালো দিন। কারণ এই দিনেই একটি দেশের জাতির পিতার খুনিদের রক্ষা করার জন্য আইন জারি করা হয়।

 

অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর