• মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১০ ১৪২৭

  • || ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি
৪৫

সশস্ত্র বাহিনী দিবস

দেশের শান্তি রক্ষা যাদের হাতে

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২০  

সশস্ত্র বাহিনী দিবস আগামী কাল শনিবার। স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। অতঃপর ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ-ভারতের সেনাদের নিয়ে গড়া মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর প্রায় তিরানব্বই হাজার সেনা আনুষ্ঠানিকভাবে রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে। এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ-এর পরিসমাপ্তি ঘটে।

দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপন করা হচ্ছে। দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও বিমানবাহিনী ঘাঁটির মসজিদগুলোতে দেশের কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
আগে তিন বাহিনী ভিন্ন ভিন্ন দিনে দিবসটি পালন করত। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে তিন বাহিনী দিবসটিকে সম্মিলিতভাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকে ২১ নভেম্বরকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালনের পেছনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জড়িয়ে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানকে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের সঙ্গে একীভূত করে নেওয়াই এই দিবসের মূল তাত্পর্য।

বাঙালি জাতিকে স্বাধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ এবং প্রস্তুত করে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ রাতে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি সেনা, ছাত্র, ও সাধারণ জনতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে একটি সামরিক বাহিনী। শুরু হয় দুর্বার মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালে গঠিত অস্থায়ী মুজিবনগর সরকার এম এ জি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। সমন্বিতভাবে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পুরো দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। জুলাইয়ে গঠন করা হয় ৩টি নিয়মিত ব্রিগেড জেড ফোর্স, এস ফোর্স ও কে ফোর্স। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৫টি ব্যাটালিয়ন ছাড়াও যুদ্ধ চলাকালে আরো ৩টি ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে পদ্মা ও পলাশ নামের দুটি গানবোট এবং নৌ কমান্ডোদের নিয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশ নৌবাহিনীর। তারা ১০ নন্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। ফ্রান্সের প্রশিক্ষণ থেকে পালিয়ে আসা ৮ বাংলাদেশি ও দেশে থাকা নাবিকদের নিয়ে তৈরি হয় নৌ-কমান্ডো। আগস্টের মাঝামাঝি চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর এবং নারায়ণগঞ্জে অপারেশন জ্যাকপটে অংশ নেন তারা। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ২৬টি জাহাজ ধ্বংস এবং সমুদ্রপথ অচল করে দেয় এ বাহিনী।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সূচনা হয় ১৯৭১ এর ২৮শে সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ধীমাপুর ঘাঁটিতে। ১০ জন পাইলট, ৬৭ জন টেকনিশিয়ান, ১টি এলয়েড থ্রি হেলিকপ্টার, ১টি অটার ও ১টি ড্যাকোডা উড়োজাহাজ নিয়ে গঠন করা হয় এ বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধের শেষভাগে পাকিস্তানি লক্ষ্যবস্তুসমূহের ওপর ৫০টি সফল হামলা চালায় কিলো ফ্লাইট নামে কাজ শুরু করা বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

মুক্তিযুদ্ধ বেগবান করতে ১৯৭১ সালের ২১ শে নভেম্বর বাংলাদেশের সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী এবং ভারতীয় মিত্র বাহিনী সম্মিলিত ভাবে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে। স্থল-নৌ ও আকাশ পথে ত্রিমুখী আক্রমণে খুলে যায় বিজয়ের পথ। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে। ৮০’র দশকের মাঝামাঝি থেকে প্রতি বছর ২১শে নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করা হয়।

 

অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর