• সোমবার   ১৭ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড’

চেয়ারম্যান পদে এগিয়ে কুজেন্দ্র

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল ২০২১  

কথায় মিষ্টিভাষী। সাদামাটা লোক। দেখলেই বুকে টেনে নেন সাধারণ মানুষকে। দিনরাত ভাবেন পুরো অঞ্চল নিয়ে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর উন্নয়ন নিয়ে তার নাম সবার আগে। 
বলছিলাম খাগড়াছড়ির সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার কথা। যাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে দেখার জোর দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের জনগণ। 
প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির জন্য অবকাঠামোসহ অন্যান্য খাতসমূহে সুষম উন্নয়নের সবচে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যে ক’টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। 
প্রতিষ্ঠানটি পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্যই পৃথকভাবে করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ড এ দুটি প্রতিষ্ঠানেও বারংবার বঞ্চনার শিকার হচ্ছে খাগড়াছড়ি জেলার বাসিন্দারা। এ জেলার প্রতিনিধিত্ব না থাকায় কাঙ্খিত উন্নয়ন হতে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।  
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে পরের বছরে অর্থাৎ ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই গঠন করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নবগঠিত মন্ত্রণালয়ে সেবারই প্রথম খাগড়াছড়ির সাংসদ কল্পরঞ্জন চাকমাকে মন্ত্রী করা হয়েছিলো। এরপর থেকে উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তারা সকলেই রাঙামাটি ও বান্দরবানের জনপ্রতিনিধি। 
কল্পরঞ্জন চাকমার পর খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত আর কোন জনপ্রতিনিধিই মন্ত্রীর দায়িত্ব পাননি। বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে আছেন বান্দরবানের সাংসদ বীর বাহাদুর উ শৈ সিং এমপি। এর আগে তিনি একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পর এ অঞ্চলের উন্নয়নে দ্বিতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। এখানেও অজানা কারণেই বারবার উপেক্ষিত হয় খাগড়াছড়ির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। 

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড’-এর চেয়ারম্যান পদে সরকার কাকে মনোয়ন দেবে?’ এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তিন জেলায় ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে খাগড়াছড়ির দুই বারের নির্বাচিত সাংসদকেই নিযুক্ত করা হোক। 
তারা বলছেন, প্রথমত নীতিমালা অনুযায়ী এই পদে জনপ্রতিনিধি নিয়োগ করা দরকার। কেননা, সরকারি আমলাদের সাথে জনসম্পৃক্ততা থাকে না। তাই জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া এখন সময়ের দাবি। আর দ্বিতীয়ত এই পদটিতেও বরাবরই খাগড়াছড়িকে উপেক্ষা করা হয়ে থাকে। তিন জেলায় উন্নয়নের সুষম বন্টনে এবারে খাগড়াছড়ি অগ্রগন্য। 
এদিক থেকে, সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাই চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পাবেন এমনটা আশাবাদী খাগড়াছড়ি জেলার মানুষ। এছাড়াও লোকমুখে উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, সাবেক সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মিজ বাসন্তী চাকমাসহ আরও বেশ ক'জনার নাম শোনা যাচ্ছে। 
বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত প্রভাংশু ত্রিপুরা জানান, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের এই প্রতিষ্ঠানটি ৭৫ সালে গঠনের কথা থাকলেও ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট স্বপরিবারে শহীদ হবার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ১৯৭৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। অথচ জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে একজন প্রতিনিধির অভাববোধ করে আসছে খাগড়াছড়িবাসী। যা এ জেলার মানুষের জন্য খুবই হতাশাজনক।’
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, 'খাগড়াছড়িবাসী দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এবার সময় এসেছে মূল্যায়নের। খাগড়াছড়ির সাংসদকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা আমাদের প্রাণের দাবী। নিশ্চয়ই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খাগড়াছড়িবাসীকে বঞ্চিত করবেন না।'
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. সুধীন কুমার চাকমা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে খাগড়াছড়ির সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার বিকল্প নাই বলেও মন্তব্য করেন। 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]