• রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৭

  • || ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি
১৯৬

খা.ছড়িতে আভ্যন্তরীন কোন্দলের জেরে মারামারিতে ২ সহোদর আহত

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০২০  

ছবি- নিজস্ব প্রতিবেদক

ছবি- নিজস্ব প্রতিবেদক

 

মোঃ সাইফুল ইসলাম

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড়ে পারিবারিক আভ্যন্তরীন কোন্দলের জেরে মারামারির এক পর্যায়ে আপন ভাইদের মধ্যে কথিত গোলাগুলি ও চাইনিজ কুড়ালের কোপে গুরুত্বর আহত হয়েছেন দুই ভাই। গত ১৫ নভেম্বর রবিবার সন্ধ্যারাতে উপজেলার সোনাইপুলে কাজী বাড়িতে রামগড় পৌরসভার মেয়র কাজী মোহাম্মদ শাহজাহান (রিপন)’র ছোট ভাই এবং কাজী মরহুম রুহুল আমিনের তিন ছেলে ও যুবলীগ নেতা কাজী জিয়াউল হাসান শিপন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সোনাইপুল বাজার কমিটির সভাপতি কাজী শাহরিয়ার ইসলাম সাহেদ এবং তাদের অপর ভাই কাজী সাইফুল ইসলাম শিমুলের মধ্যকার আভ্যন্তরীন মারামারি ঘটনায় পায়ে গুলি সদৃশ কিছু দ্বারা মারাত্নক আঘাতপ্রাপ্ত হন কাজী শাহরিয়ার ইসলাম সাহেদ এবং মাথায় চাইনিজ কুড়ালের আঘাতপ্রাপ্ত হন কাজী জিয়াউল হাসান শিপন। এ ঘটনায় দুজনকে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী ও পুলিশ পৃথকভাবে উদ্ধার করে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতেই তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে একে অপরের দিকে আঙ্গুল তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন উপজেলার যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা। বিভিন্ন টেলিভিশন, জাতীয় ও অনলাইন সংবাদপত্রে রামগড় পৌর মেয়রের দিকেও অভিযোগের তীর ছোঁড়া হয়েছে। এ নিয়ে এক প্রকার বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে জনমনে। 

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছাপা হয়েছে, রাজনীতি এবং জায়গা সম্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রামগড় পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান কাজী রিপনের ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ দ্বন্দ্বের জের ধরে রবিবার (১৫ নভেম্বর) রাত পৌনে ৯ টার দিকে ছোট ভাই কাজী শিপনের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হয় অপর দুই ভাই কাজী সাহেদ ও কাজী শিমুল প্রথমে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির এক পর্যায়ে শর্টগানের গুলিতে কাজী সাহেদ আহত হন। এ সময় বেদড়ক পিটিয়ে কাজী শিপনকে আহত করা হয়। গুলিবিদ্ধ সাহেদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কাজী শিপনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। (১) 

এছাড়া কাজী সাইফুল ইসলাম শিমুমের বক্তব্য তুলে ধরে আরেকটি জাতীয় দৈনিকে ছাপা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শী কাজী সাইফুল ইসলাম শিমুল জানান, দীর্ঘ দিন ধরে অন্যায়ভাবে পারিবারিক সম্পত্তি জোর করে দখল এবং টাকা আত্মসাতের কারণে বড় ভাই মেয়র কাজী রিপনের সাথে অপর ভাইদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে অতর্কিতভাবে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। বাড়ির সীমানায় প্রবেশের মুহূর্তে কাজী রিপন ও তাদের অপর ভাই জিয়াউল হক শিপন এসে সাহেদকে কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে রিপন ক্ষিপ্ত হয়ে সাহেদের পায়ে একাধিক গুলি করে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। (২) 

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে রামগড় পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান কাজী রিপন উল্টো অভিযোগ করেন, তার ভাই সাহেদ ও শিমুল দুজনে মিলে অপর ভাই শিপনের বাসায় হামলা চালিয়ে জিনিসপত্র ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে শিপনকে মারার জন্য শর্টগানের গুলি ছুড়লে তা সাহেদের পায়ে বিদ্ধ হয় এবং শিপনকে বেদম মারধর করেন তারা। (৩) তিনি আরো জানান,‘মসজিদের জমি অধিগ্রহণ কেন্দ্রকে আমাদের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছি। এরই জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানতে পেরেছে আমার আরেক ভাই শিমুলের হাতে এসময় অস্ত্র ছিল। তবে কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে তা বলতে পারছি না।’ (৪)

একাধিক সংবাদপত্রে উঠে এসেছে, পূর্বের বিরোধের জেরে রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে নয়টার দিকে কাজী শাহরিয়ার ইসলাম সাহেদ ও কাজী সাইফুল ইসলাম শিমুলের সাথে কাজী জিয়াউল হক শিপনের মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে সাহেদ ও শিমুলের হামলায় শিপন মাথায় মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হন। একপর্যায়ে শিপন তার কাছে থাকা একটি অবৈধ অস্ত্র বের করে সাহেদের পায়ে গুলি করে বলে জানা যায়। এসময় সাহেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে রামগড় ও নিকটস্থ সোনাইপুল বাজারে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের লোকজনকে ফোনে খবর দিলে তারা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং শিপনকে অবরুদ্ধ করে হামলার চেষ্টা চালায়। তাৎক্ষনিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিপনকে উদ্ধার করে পুলিশ প্রহরায় রামগড় হাসপাতালে ভর্তি করে জানা যায়। (৫) 

ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত একাধিক সূত্র এবং কাজী জিয়াউল হাসান শিপন ও কাজী শাহরিয়ার ইসলাম সাহেদের এক নিকটাত্নীয় জানিয়েছেন, ঘটনার সময় রামগড়ে ছিলেন যুবলীগ নেতা কাজী জিয়াউল হাসান শিপন। এসময় কাজী শাহরিয়ার ইসলাম সাহেদ ও কাজী সাইফুল ইসলাম শিমুল শিপনের ঘরে ঢুকে ভাংচুর চালাচ্ছে এমন সংবাদ শুনে দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসেন শিপন। বাড়িতে আসার পর সংবাদের সত্যতা দেখে তাৎক্ষনিক নিজ ভাইদের সাথে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে বিষয়টি মারামারিতে রুপ নেয়। এতে সাহেদ ও শিমুলের হামলায় শিপন মাথায় মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত হন। পরক্ষনে বাড়িতে থাকা মরহুম কাজী রুহুল আমিনের একটি বন্দুক হাতে নিয়ে শিপনকে গুলি করতে উদ্যত হন শিমুল, কিন্তু এসময় প্রত্যক্ষদর্শীসহ তাদের ধস্তাধস্তিতে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সাহেদের পায়ে বিদ্ধ হয়। তবে, গুলি করার বিষয়ে কাজী সাহেদ ও কাজী শিপনের বিরুদ্ধে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন সংবাদপত্রে সংবাদ ছাপা হলেও কেউ গুলিবিদ্ধ সাহেদ ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত শিপনের কোন বক্তব্য তুলে ধরতে পারেনি। 

অন্যদিকে, রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কাজী শাহরিয়ার ইসলাম সাহেদ ও কাজী সাইফুল ইসলাম শিমুল এবং পৌর মেয়র কাজী মোহাম্মদ শাহজাহান ও কাজী জিয়াউল হাসান শিপনের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য পোষ্ট করেছেন ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন ভাবে বক্তব্য তুলে ধরে সংবাদ ছাপানো হয়েছে। এতে করে উপজেলাবাসী একটি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত তথা আতঙ্কিতও হয়েছেন। পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তিরও সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদ জানান,‘মূলত তাদের (কাজী পরিবার) পারিবারিক বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনায় একজনের মাথায় এবং অন্য জনের পায়ে গুলি সদৃশ আঘাত লেগেছে, তবে সেটি গুলি কিনা তা নিশ্চিত নয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে রামগড় হাসপাতালে নিয়ে আসে, পরে তাদের চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়েছে।’ গুলির বিষয়টি নিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত কাজী বাড়ি থেকে কোন বন্দুক বা গুলির খোসা খুঁজে পায়নি পুলিশ। তাই গুলির বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছেনা। তবে সাহেদের পায়ে গুলি লেগেছে কি না তা ডাক্তারি পরীক্ষায় উঠে আসবে। এছাড়া বিষয়টিকে পারিবারিক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে নিজেদের সম্পত্তি বা পূর্ব বিরোধ নিয়ে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে রাজনৈতিক কোন ব্যাপার জড়িত নেই। এ ঘটনায় কাজী বাড়িতে সেসময় উপস্থিত (ঘটনাস্থল) থাকা তিনজনের মধ্যে আহত শিপন ও সাহেদ হাসপাতালে থাকলেও কাজী সাইফুল ইসলাম শিমুলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামসুজ্জামান জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় এখনও থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্রঃ
১। www.ittefaq.com.bd/wholecountry/199331/পারিবারিক-দ্বন্দ্বের-জেরে-পৌর-মেয়রের-ভাই-গুলিবিদ্ধ?fbclid=IwAR1LK0uCZ1iCNEbtqeMZkoK5fFBbeV2_mpNmbNb7vVmVI-TYGS3x20aEGZE

২। www.dailynayadiganta.com/chattagram/542517/ছোট-ভাইকে-গুলির-অভিযোগ-পৌর-মেয়রের-বিরুদ্ধে

৩। www.ittefaq.com.bd/wholecountry/199331/পারিবারিক-দ্বন্দ্বের-জেরে-পৌর-মেয়রের-ভাই-গুলিবিদ্ধ?fbclid=IwAR1LK0uCZ1iCNEbtqeMZkoK5fFBbeV2_mpNmbNb7vVmVI-TYGS3x20aEGZE

৪। paharbarta.com/খাগড়াছড়িতে-পারিবারিক-দ্ব/?fbclid=IwAR01_g3xxkZ3l7GmMexca7-L7N6NwwXoAF3LddIVe_4A84N-g3BMwLp4IfU

৫। www.jamuna.tv/news/184257?fbclid=IwAR1LK0uCZ1iCNEbtqeMZkoK5fFBbeV2_mpNmbNb7vVmVI-TYGS3x20aEGZE

থানা সংবাদ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর