• সোমবার   ১৭ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৮

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪২

দৈনিক খাগড়াছড়ি

করোনা পরীক্ষার মান নিশ্চিত করবে আইইডিসিআর

দৈনিক খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০২০  

 

করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে কাজ করবে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)। বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলো নির্দিষ্ট সময় পর আইইডিসিআরে নমুনা দিয়ে পরীক্ষার মান নিশ্চিত করবে।
করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে কাজ করবে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)। বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলো নির্দিষ্ট সময় পর আইইডিসিআরে নমুনা দিয়ে পরীক্ষার মান নিশ্চিত করবে।

সব ধরনের পরীক্ষার কিট ব্যবহারের আগে অবশ্যই সরকারির অনুমোদন নিতে হবে। এ ধরনের নির্দেশনাসহ কোভিড-১৯ ল্যাবরেটরি পরীক্ষাসংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০ চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। শিগগিরই এটা কার্যকর হবে।

এ নীতিমালা অনুযায়ী দেশে কোভিড-১৯ শনাক্তে পরীক্ষার ধরন নির্ধারিত হবে। এছাড়া পরীক্ষার হার কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নীত করা, স্বল্প সময়ে টেস্টসহ এ সংক্রান্ত সব এর ভিত্তিতেই হবে। মন্ত্রণালয় সময়ে সময়ে এ নীতিমালা সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন ও বিয়োজন করতে পারবে।

১২ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এ নীতিমালা প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণের ল্যাবরেটরি পরীক্ষা শুরু হয়। এর মধ্যে নিউক্লিক এসিড টেস্ট এখন পর্যন্ত গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বিবেচিত। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ করেছে।

এছাড়া সারা পৃথিবীতে সেরো-সার্ভিলেন্স বা কোভিডোত্তর অ্যান্টিবডি পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন টেস্ট কিট ব্যবহার করছে। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণে নিউক্লিক এসিড পরীক্ষা (পিসিআর ও জিনএক্সপার্ট), র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা এবং অ্যান্টিবডি পরীক্ষার প্রয়োজন আছে।

দেশে কোভিড-১৯ রোগের প্রাদুর্ভাব, ল্যাবরেটরি সক্ষমতা ও অন্যান্য অবস্থা বিবেচনা করে এসব পরীক্ষার জন্য এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

নীতিমালার উদ্দেশে বলা হয়েছে, স্বল্প সময়ে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্ত করা হবে। এজন্য রোগ নির্ণয় ও সংশ্লিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ধারণ নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া শনাক্তকরণ পরীক্ষার হার কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নীত করা হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সব সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, যাদের কোভিড-১৯ ল্যাবরেটরি পরীক্ষার অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুমোদন দেয়া হবে তাদের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, নিউক্লিক এসিড টেস্ট কোভিড-১৯ ভাইরাসের আরএনএর উপস্থিতি শনাক্ত করে। উপসর্গযুক্ত বা উপসর্গহীন রোগীর নমুনায় সামান্যতম ভাইরাসের উপস্থিতিও এ পরীক্ষায় শনাক্ত করা সম্ভব। এ পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের পরীক্ষার জন্য যথাযথ জৈব নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং উন্নতমানের ল্যাবরেটরি প্রয়োজন হয়।

রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি, আউটব্রেক রেসপন্স, কন্টাক্ট ট্রেসিং, ভ্যাকসিন ও অন্যান্য গবেষণায় আরটি-পিসিআর পরীক্ষা ব্যবহার করা হবে। তবে পয়েন্ট অফ এন্ট্রি (বিমান, স্থল ও সমুদ্র বন্দর) আরটি-পিসিআর পরীক্ষা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া ইলেকটিভ সার্জারির রোগী এবং কোভিড-১৯ ছাড়া অন্য উপসর্গের রোগীদের ক্ষেত্রেও এ পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।

হাসপাতাল বা ক্লিনিকে জরুরি ভর্তি, চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জিনএক্সপার্ট (কার্টিজভিত্তক) ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। বিশেষ করে ইলেকটিভ সার্জারির রোগী, যেখানে পিসিআর সুবিধা নেই এবং নির্দিষ্ট হাসপাতালে এটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, নিউক্লিক এসিড টেস্টের ফলাফল নিশ্চিত হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে অন্য কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। তবে অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদিত কিট ব্যবহার করতে হবে।

অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আরটি-পিসিআরের তুলনায় সংবেদনশীলতা কমপক্ষে ৮০ শতাংশ এবং সুনির্দিষ্টতা ৯৭ শতাংশ হতে হবে। অন্যথায় কিট ব্যবহার করা যাবে না। এ পরীক্ষা রোগের উপসর্গ প্রকাশের এক থেকে ৭ দিনের মধ্যে করতে হবে।

বিশেষ করে যেসব এলাকায় পিসিআর পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই, যেসব এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি সেখানে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে উপসর্গহীন ব্যক্তি, যেসব এলাকায় সংক্রমণের হার কম, পয়েন্ট অব এন্ট্রি (বিমান, স্থল ও সমুদ্রবন্দর), রক্তদানে পূর্ববর্তী পরীক্ষার ক্ষেত্রে, ইলেকটিভ সার্জারির রোগীর ক্ষেত্রে এমনকি কোভিড-১৯ ছাড়া অন্য উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে এ পরীক্ষা করা যাবে না।

অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হলে অবশ্যই পিসিআর পরীক্ষায় সেটি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ কিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ক্ষেত্রে যেসব কিটের সংবদনশীলতা ৯০ শতাংশ এবং সুনির্দিষ্টতা ৯৫ শতাংশ সেসব কিট ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নীতিমলায়। সেরো-সার্ভিলেন্স, প্লাজমা ডোনেশন, রোগতত্ত্বীয় ও ভ্যাকসিন গবেষণার ক্ষেত্রে এ কিট ব্যবহার করা যাবে। তবে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণে বা পয়েন্ট অব কেয়ারে এ কিট ব্যবহার করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মোশতাক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, নীতিমালা অবশ্যই থাকা উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকেই নির্দেশিত এসব নীতিমালা অনুসরণ করেই আইইডিসিআর এতদিন কাজ করেছে। এখন সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সবাই এ নীতিমালা ধরে কাজ করলে এতে শৃঙ্খলা থাকবে।

তবে সময় সময়ে নীতিমালা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ নীতিমালা যাতে সঠিকভাবে প্রতিপালিত হয় সেটি নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে কিনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম যুগান্তরকে বলেন, নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে। শিগগিরই এ নীতিমালার আলোকে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা সংক্রান্ত সব কাজ পরিচালিত হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া যেকোনো সংবাদ বা অভিযোগ লিখে পাঠান এই ইমেইলেঃ [email protected]